অভিবাসন নীতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। ২৩ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কেবল অনিবন্ধিত অভিবাসী হওয়ার সন্দেহে মানুষকে নজরদারি ও গ্রেফতার করা হচ্ছে। হাসপাতাল, গির্জা, মসজিদ, আদালত, বাজার, স্কুল এমনকি নিজ নিজ বাড়িতেও সহিংস অভিযান চালানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মিনিয়াপোলিস শহরে প্রায় তিন হাজার ভারী অস্ত্রধারী ও মুখোশধারী ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, তারা বিপজ্জনক অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। তবে এতে আইন মেনে চলা মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে এক অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর শহরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্থানীয় প্রশাসনের অসহযোগিতা ও “চরম বামপন্থি উসকানিদাতাদের” দায়ী করে অভিযানের পক্ষে অবস্থান নেন।
ভলকার টুর্ক বলেন, মার্কিন অভিবাসন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অনেক ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ করছে। কোনো ব্যক্তি যদি তাৎক্ষণিকভাবে জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি না করেন, তবে শক্তি প্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অভিবাসন কার্যক্রমে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তিদের সময়মতো আইনি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না।
জাতিসংঘ হাইকমিশনার মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তার তথ্যমতে, ২০২৫ সালে আইসিই হেফাজতে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত আরো ছয়জন মারা গেছেন।
টুর্ক অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়মিত অবমাননাকে নিন্দা করে বলেন, তাদের অপরাধী বা সমাজের বোঝা হিসেবে চিত্রিত করা হচ্ছে, যা জেনোফোবিক শত্রুতা ও নির্যাতনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)