যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে সম্প্রতি আইসিই সদস্যের গুলিতে রিনি নিকোল গুড নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। এ ঘটনা আইসিইর কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) গঠিত হয়। এর অংশ হিসেবে ২০০২ সালে আইসিই প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অবৈধ অভিবাসন সম্পর্কিত তদন্ত এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের দায়িত্ব পালন করে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর আইসিইর বাজেট ও কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আইসিই সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে কাউকে থামাতে, আটক ও গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে কোনো বাড়ি বা ব্যক্তিগত জায়গায় প্রবেশের জন্য তাদের পরোয়ানা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ কেবল তখনই অনুমোদিত, যখন ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর বিপদের কারণ হন। কিন্তু বাস্তবে আইসিই সদস্যরা অনেক সময় অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ আইসিইর আটককেন্দ্রে ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে প্রায় ৬ লাখ মানুষকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং আরও প্রায় ১৯ লাখ অভিবাসী স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে গেছেন। আটক অবস্থায় অনেক অভিবাসী আইনি লড়াইয়ের সুযোগ পান, তবে ব্যর্থ হলে তাদের বহিষ্কার করা হয়।
আইসিইর অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রায়ই আইসিই সদস্যদের গ্রেপ্তার অভিযান ভিডিও করেন। কখনো কখনো এসব ঘটনায় সহিংসতা দেখা দিয়েছে। শিকাগোতে সংবাদমাধ্যমের একটি জোট আইসিই ও ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, অভিযোগ ছিল সাংবাদিক ও প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপে দেখা গেছে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে অভিবাসন নীতি নিয়ে বিভক্ত মতামত রয়েছে। প্রায় ৫৩ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘বাড়াবাড়ি’ করছে। অন্যদিকে প্রায় ৩৬ শতাংশ এ নীতিকে সমর্থন করেন।
আইসিই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তাদের অভিযান ও বলপ্রয়োগের ধরন নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আইসিইর কর্মকাণ্ড অনেক সময় আইনের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং সাধারণ নাগরিকদেরও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)