গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে পুরো ইউরোপকে শত্রু বানিয়েছে ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৮
দীর্ঘদিনের মিত্র ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র জোট এখন ভাঙনের মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তি উপেক্ষা করে তিনি দ্বীপটি দখলের চেষ্টা জোরদার করেছেন। ইউরোপীয় নেতারা এর বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন, যা দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে তুলছে।
ট্রাম্পের ভূখণ্ড দখলের পরিকল্পনা ইউরোপীয় নেতাদের ক্ষুব্ধ করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মানির অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা শুল্ক হুমকির জবাব দিতে প্রস্তুত। ইউরোপের নেতারা ব্রাসেলসে বৈঠকে বসে ট্রাম্পের উসকানির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখানোর পরিকল্পনা করছেন।
ট্রাম্প এরই মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দিয়েছেন। গবেষণা সংস্থা জার্মান মার্শাল ফান্ডের ব্রাসেলস কার্যালয়ের প্রধান ইয়ান লেসার বলেছেন, মিত্রদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধের মতো ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। ইউরোপ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে নির্ভরশীল। নতুন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক বছর সময় লাগবে। অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকায় মার্কিন অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে কিছু ইউরোপীয় দেশকে ভবিষ্যতে ‘অবিশ্বস্ত মিত্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ও ইউরোপকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ দুইয়ে মিলে জোটের কয়েক দশকের বিশ্বাস ক্ষয়ে যাচ্ছে। কার্নেগি ইউরোপের পরিচালক রোজা বালফোর মনে করেন, বিশ্বাস পুনর্গঠনে প্রজন্মগত পরিবর্তন প্রয়োজন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বলেছেন, কোনো ভয় বা হুমকি ইউরোপকে প্রভাবিত করতে পারবে না। তিনি শুল্ক হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে বলেছেন, প্রয়োগ হলে ইউরোপ ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দেবে। অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। রোজা বালফোরের মতে, ইউরোপীয় নেতারা বুঝতে পারছেন, ট্রাম্পকে ছাড় দিলে তিনি আরো ছাড় দাবি করবেন।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান এবং ইউরোপীয় নেতাদের প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র জোটে দূরত্ব বাড়ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা এই জোট এখন মৌলিকভাবে বদলে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই ফাটল মেরামত করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
logo-1-1740906910.png)