Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

কীভাবে নতুন এক যুক্তরাষ্ট্র গড়ছেন ট্রাম্প?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৭

কীভাবে নতুন এক যুক্তরাষ্ট্র গড়ছেন ট্রাম্প?

ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তুলছেন- এমনই বিশ্লেষণ উঠে এসেছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে। তার নীতি ও সিদ্ধান্তগুলো শুধু ফেডারেল পর্যায়ে নয়, বরং প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কাঠামো ও জোট সম্পর্ক এখন নতুন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে গেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে অর্থনৈতিক নীতিতে। তিনি কর কমানোর পাশাপাশি শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করছেন। এর ফলে কিছু অঙ্গরাজ্যে শিল্পকারখানা নতুন করে গড়ে উঠছে, আবার অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল রাজ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি ও উৎপাদনশীল খাতকে রক্ষায় তিনি বিশেষ ভর্তুকি ঘোষণা করেছেন। তবে সমালোচকরা বলছেন, এই নীতি দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক বাজারে যুক্তরাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে পারে।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন এনেছে। সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম এবং অভিবাসীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমিকের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, আবার অনেক নাগরিক মনে করছেন নিরাপত্তা বেড়েছে।  

ট্রাম্প প্রশাসন পরিবেশ নীতিতে আগের অবস্থান থেকে সরে গিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। কয়লা ও তেল উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল রাজ্যগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কের মতো রাজ্যগুলো ফেডারেল নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের পরিবেশ আইন জারি করেছে। ফলে দেশজুড়ে পরিবেশ নীতিতে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।  

স্বাস্থ্যসেবা খাতে ট্রাম্পের সংস্কার নীতি অনেক রাজ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ওবামাকেয়ার সীমিত করার ফলে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য চিকিৎসা সুবিধা কমে গেছে। শিক্ষা খাতেও ফেডারেল তহবিল কমানো হয়েছে, যা স্থানীয় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে কিছু রক্ষণশীল রাজ্যে এই নীতি জনপ্রিয়তা পেয়েছে, কারণ তারা মনে করে স্থানীয় সরকারই শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বেশি উপযুক্ত।  

ট্রাম্পের নীতি শুধু অর্থনীতি বা সমাজে নয়, রাজনীতিতেও বড় পরিবর্তন এনেছে। রিপাবলিকান দল তার নেতৃত্বে আরো ডানপন্থি হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিটি রাজ্যে নতুন করে সংগঠিত হচ্ছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন আরো গভীর হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলো অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি করছে।  

ট্রাম্পের নীতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নয়, বাইরেও প্রভাব ফেলছে। ইউরোপ ও এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন করে সাজানো হচ্ছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যু থেকে শুরু করে শুল্ক যুদ্ধ; সবকিছুই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে। এর ফলে অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে।  

সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তুলছেন। তার নীতি ও সিদ্ধান্তগুলো প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলছে। কোথাও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, কোথাও আবার অর্থনৈতিক সংকট বাড়ছে। অভিবাসন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক; সব ক্ষেত্রেই তার নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে এক নতুন বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ বলছে, এই পরিবর্তনগুলো দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে মৌলিকভাবে বদলে দিতে পারে। 

Logo