কানাডায় শিক্ষার্থী ও কর্মী ভিসায় পরিবর্তন আসছে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০০:৫২
কানাডা ২০২৬ সাল থেকে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য ভিসা ও স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বাড়ানো হবে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনা এবং সামাজিক সুবিধার ওপর চাপ কমাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এ সংবাদ প্রকাশ করেছে।
কানাডায় পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীরা সাধারণত কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পান। সেই সময় পেশাগত দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও কর্মী স্থায়ী বাসিন্দা হতে না পারায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। অনেকের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, আবার অনেকের আবেদন ঝুলে আছে।
নতুন নীতিতে ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ সীমিত করা হচ্ছে। স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার জন্য আবেদনকারীদের দক্ষতা, চাকরির প্রমাণ এবং আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হবে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং বিশেষ করে ভারত ও বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কঠোর যাচাই-বাছাই হবে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ পরিবর্তনের ফলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ মানুষ বৈধ বসবাসের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। এতে ব্যক্তি পর্যায়ে যেমন সংকট তৈরি হবে, তেমনি অর্থনীতিতেও চাপ পড়বে।
ইমিগ্রেশন, রিফিউজি ও সিটিজেনশিপ কানাডা (আইআরসিসি) জানিয়েছে, কিছু টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিটধারীর মেয়াদ ২০২৬ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যাতে তারা অপেক্ষাকালীন বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। তবে প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও নতুন নিয়মের কারণে অনেক অভিবাসী দীর্ঘ সময় ধরে কাগজপত্র নবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে তারা স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কানাডায় এখন কাজ ও বসবাসের সুযোগের ধরন বদলে যাচ্ছে। যারা নিয়মিত কাজ করছেন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করছেন, আপাতত তাদের জন্যই পথ খোলা রয়েছে।
logo-1-1740906910.png)