Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডের পর এবার কার পালা?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫৫

ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডের পর এবার কার পালা?

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক এবং গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি কানাডায় নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্পের পুরোনো মন্তব্যগুলো এখন আর নিছক কথার কথা মনে হচ্ছে না। কানাডার গণমাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।  

কানাডার জাতীয় দৈনিক গ্লোব অ্যান্ড মেইল-এ প্রকাশিত একটি কলামে সতর্ক করা হয়েছে, ট্রাম্প হয়তো কানাডার বিরুদ্ধে সামরিক জবরদস্তি করতে পারেন। লেখকরা পরামর্শ দিয়েছেন, ফিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা নেওয়া, সিভিল ডিফেন্স ফোর্স বাড়ানো এবং ইউক্রেনের মতো জাতীয় ড্রোন কৌশল তৈরি করা জরুরি। নিরাপত্তা বিশ্লেষক টমাস হোমার-ডিক্সন বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে যদি সামরিক জবরদস্তির চেষ্টা হয়, তবে স্পষ্ট করে দিতে হবে যে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।”  

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থান কানাডার জন্যও সতর্কবার্তা। কারণ কানাডা আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ন্যাটোর অংশ। সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ওয়েসলি ওয়ার্ক বলেছেন, “ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডের ঘটনাই প্রমাণ করছে যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো নেই।”  

তবে বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন না যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কানাডায় হামলা চালাবে। কার্লটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্টেফানি কারভিন বলেন, “এখনো এটি সায়েন্স ফিকশনের মতো মনে হয়।” তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ট্রাম্পের খেয়ালখুশি সিদ্ধান্ত কানাডার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।  

কানাডার সেনাবাহিনী বর্তমানে সীমিত সক্ষমতায় রয়েছে। নিয়মিত ও রিজার্ভ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা এক লাখেরও কম। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সেনা নিয়োগ বাড়াতে বেতন বৃদ্ধি করেছেন এবং নতুন যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন কেনার জন্য বাজেট বরাদ্দ দিয়েছেন। তবে এসব বাস্তবায়নে কয়েক বছর সময় লাগবে।  

রাজনৈতিক অঙ্গনেও মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আলবার্টা প্রদেশে স্বাধীনতার গণভোটের প্রস্তুতি চলছে। কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। এ নিয়ে বিদেশি অর্থ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে হস্তক্ষেপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।  

অর্থনৈতিক দিক থেকেও কানাডা ঝুঁকিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইউএসএমসিএ বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা শুরু হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প চাইলে শুল্ক সুবিধা বাতিল করে কানাডার অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করতে পারেন। কারণ কানাডার রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়।  

কার্নি সরকার এই নির্ভরতা কমাতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আগামী সপ্তাহে তিনি প্রায় এক দশকের মধ্যে প্রথম কানাডিয়ান নেতা হিসেবে চীন সফরে যাচ্ছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এত ছাড় দিয়েও কানাডার সার্বভৌমত্ব ক্ষয়ের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

Logo