সরকারি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে ৬.১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দীর্ঘতম সরকারি বন্ধের ফলে দেশটির ভ্রমণ শিল্পে বিপুল ক্ষতি হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই বন্ধে ভ্রমণ খাতে প্রায় ৬.১ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। বিমান চলাচল, পর্যটন এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) জনবল সংকটে ৪০টি বড় বিমানবন্দরে ফ্লাইট কমিয়ে দেয়। এতে ব্যাপক বিলম্ব ও বাতিলের ঘটনা ঘটে। শুধু বিমান খাতেই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২.৩ বিলিয়ন ডলার। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার, টিএসএ কর্মকর্তা ও কাস্টমস কর্মীরা বেতন ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হন, যা চাপ বাড়ায় এবং কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায়।
জাতীয় উদ্যান, জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পর্যটন খাতে বড় ধাক্কা লাগে। স্মিথসোনিয়ান জাদুঘর, গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ও স্ট্যাচু অব লিবার্টির মতো জনপ্রিয় গন্তব্য বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীর সংখ্যা হ্রাস পায়। এতে পর্যটন খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। আশপাশের হোটেল, রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলোতে ব্যবসা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
রেস্তোরাঁ, হোটেল ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আয় কমে যায় প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার। সরকার-সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ বন্ধ থাকায় আরো ৬০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। প্রায় ১৫ মিলিয়ন কর্মসংস্থান নির্ভরশীল এই শিল্পে চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।
এই সরকারি বন্ধের মূল কারণ ছিল স্বাস্থ্যনীতি নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা। অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট (ACA) মার্কেটপ্লেসে ভর্তুকি চালু রাখার বিষয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ফেডারেল সরকার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্র ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকারি বন্ধের সময় প্রতিদিন গড়ে ৮৮ হাজার কম ভ্রমণ হয়েছে। সংগঠনের গবেষণা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোশুয়া ফ্রিডল্যান্ডার বলেন, “সরকারি বন্ধ ব্যয়বহুল, বিঘ্নসৃষ্টিকারী এবং অপ্রয়োজনীয়।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভ্রমণ শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া জরুরি, কারণ এটি কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
logo-1-1740906910.png)