কানাডায় কাপল স্পন্সরশিপে সম্পর্ক প্রমাণের নিয়ম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৫
কানাডায় দাম্পত্য বা কমন-ল’ স্পন্সরশিপে আবেদন করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্পর্কের সত্যতা প্রমাণ করা। অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব কানাডা (IRCC) প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে দেখে নিশ্চিত হয় যে সম্পর্কটি প্রকৃত, কেবল অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়। যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে আবেদন বিলম্বিত হতে পারে কিংবা সরাসরি বাতিলও হতে পারে।
আইআরসিসি সাধারণত বিভিন্ন ধরনের নথি ও প্রমাণ বিবেচনা করে। এর মধ্যে রয়েছে বিবাহ সনদ, যৌথ ভাড়া বা ব্যাংক হিসাব, বীমায় একে অপরকে সুবিধাভোগী হিসেবে দেখানো কিংবা একই ঠিকানায় বসবাসের প্রমাণ। পাশাপাশি একসঙ্গে তোলা ছবি, ভ্রমণের রেকর্ড, যোগাযোগের ইতিহাস (ইমেইল, ফোনকল, মেসেজ) এবং পরিবার-বন্ধুর সাক্ষ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেদনকারীদের সব তথ্য যেন একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। সময়, ঠিকানা বা ব্যক্তিগত তথ্যের মধ্যে কোনো অসঙ্গতি থাকলে তা সন্দেহ তৈরি করতে পারে। অনেকেই শুধু বিবাহ সনদ জমা দেন, কিন্তু যৌথ জীবনযাপনের প্রমাণ না থাকলে আবেদন দুর্বল হয়ে পড়ে।
দূরত্বে থাকা দম্পতিদের জন্য বাড়তি প্রমাণ দেওয়া জরুরি—যেমন নিয়মিত যোগাযোগের রেকর্ড ও সাক্ষাতের প্রমাণ। একইভাবে সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথা ও রীতির ব্যাখ্যা দেওয়া দরকার। সমলিঙ্গ দম্পতিদের ক্ষেত্রেও সম্পর্কের প্রমাণ কম প্রকাশ্য হলে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা ও নথি জমা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আইআরসিসি আবেদনকারীদের পরামর্শ দিয়েছে, যত দ্রুত যোগ্যতা পূরণ হয় তত দ্রুত Expression of Interest (EOI) জমা দিতে। আবেদনকারীদের উচিত প্রতিদিনের যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করা, ভ্রমণের টিকিট ও রসিদ জমা রাখা এবং বিভিন্ন ধরনের ছবি সংরক্ষণ করা। সব নথি ইংরেজি বা ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করে জমা দিতে হবে।
কানাডায় দাম্পত্য স্পন্সরশিপে সফল হতে হলে সম্পর্কের সত্যতা প্রমাণে বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী প্রমাণ জমা দেওয়া অপরিহার্য। স্বচ্ছতা, সামঞ্জস্য ও নিয়মিত নথি সংরক্ষণই আবেদনকে শক্তিশালী করে। আইআরসিসির কর্মকর্তারা প্রতারণা শনাক্তে প্রশিক্ষিত, তাই আবেদনকারীদের উচিত শুরু থেকেই সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ প্রস্তুত রাখা।
logo-1-1740906910.png)