Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাজ্যে দিন দিন বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৪

যুক্তরাজ্যে দিন দিন বাড়ছে পারিবারিক সহিংসতা

গত এক দশকে যুক্তরাজ্যে মা-বাবা বা সৎ অভিভাবকের প্রতি সন্তানের সহিংস অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। দেশটির বৃহত্তম পুলিশ বাহিনী স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৮৬। কিন্তু ২০২৫ সালের প্রথম ১০ মাসেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯১টিতে। অর্থাৎ বৃদ্ধি হয়েছে ৬০ শতাংশেরও বেশি।  

জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, এই অপরাধগুলোর সঙ্গে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা জড়িত, যাদের ভুক্তভোগী মা-বাবা বা সৎসন্তান হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ইংল্যান্ড, ওয়েলস ও উত্তর আয়ারল্যান্ডে ১০ বছর বয়স থেকেই শিশুদের ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আনা হয়। কোভিড মহামারির সময় এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায় এবং পরবর্তী চার বছর ধরে তা ক্রমেই বাড়তে থাকে।  

২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অপরাধের সংখ্যা ছিল গড়ে দুই হাজারের কাছাকাছি। কিন্তু ২০২০ সালে মহামারির সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৪৫৪। এরপর ২০২১ সালে ২ হাজার ৩৯৫, ২০২২ সালে ২ হাজার ৭৯২, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ৫২, ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৩০ এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ৯১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়।  

‘কাপা ফার্স্ট রেসপন্স’ নামের একটি দাতব্য সংস্থার প্রধান নির্বাহী জেইন অ্যাটকিনসন জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে ভুক্তভোগী অভিভাবকদের সেবা নেওয়ার সংখ্যা গত দুই বছরে ৯০ শতাংশ বেড়েছে। তিনি বলেন, অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতার শিকার হলেও কেবল গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হলে সাহায্য চাইতে এগিয়ে আসেন।  

অ্যাটকিনসন আরো বলেন, শিশু দারিদ্র্য বৃদ্ধি, অভিভাবকদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং সামাজিক চাপ এই সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। বাইরের জীবনে সংগ্রাম করতে গিয়ে অনেক পরিবার ভেতরে সম্পর্কের টানাপোড়েনে ভুগছে।  

অক্সফোর্ড ও ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারির সময় ঘরে বসে পড়াশোনার চাপ, দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন এবং বাইরের সহায়তা না পাওয়া সহিংসতা বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন মা সাক্ষ্যে বলেছেন, তার ছেলে এতটাই মারধর করেছিল যে পুলিশ সময়মতো না এলে তিনি হয়তো বেঁচে থাকতেন না।  

‘চাইল্ড টু প্যারেন্ট ভায়োলেন্স অ্যান্ড অ্যাবিউজ’ বইয়ের লেখিকা হেলেন বনিক মনে করেন, নতুন পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে সামাজিক সংকোচ কমে আসছে এবং মানুষ এখন অভিযোগ জানাতে বেশি উৎসাহী। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মহামারি ও সামাজিক চাপের পাশাপাশি আরো অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে।  

২০১০ সাল থেকে এ বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। আগে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হতো না। এখন ট্রমা ও নিউরোডাইভারসিটি সম্পর্কে নতুন ধারণা পরিবারগুলোতে ঘটমান সমস্যাকে বোঝার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। বিশেষায়িত সেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ায় আরো বেশি মানুষ সাহায্য চাইতে এগিয়ে আসছেন।  

গবেষণায় দেখা গেছে, মা-বাবার ওপর সন্তানের সহিংসতা অল্প বয়স থেকেই শুরু হতে পারে, তবে সাধারণত ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি ক্রমবর্ধমান সমস্যা হিসেবে দেখা হলেও নির্ভরযোগ্য গবেষণার অভাব রয়েছে।  

২০২৪ সালে জনপ্রিয় ব্রিটিশ টিভি সিরিয়াল ইস্টএন্ডার্সে বিষয়টি কাহিনির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়। এতে এক চরিত্রকে তার কিশোর ছেলের সহিংস আচরণ সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায়।  

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মা-বাবার ওপর সন্তানের সহিংসতা পারিবারিক সহিংসতার সবচেয়ে গোপন ও লজ্জাজনক রূপ। রেকর্ড হওয়া ঘটনাগুলো সমস্যার প্রকৃত ভয়াবহতার কেবল একটি অংশ। ঘুষি, লাথি, চুল ধরে টানা, ধাক্কা দেওয়া থেকে শুরু করে অস্ত্র ব্যবহার বা পুড়িয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা; সবই এই সহিংসতার অন্তর্ভুক্ত।

Logo