নিউ ইয়র্কে মামদানির টিমে ৯ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:২৬
আগামী ১ জানুয়ারি নিউ ইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন জোহরান মামদানি। গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ শহরের মেয়র নির্বাচিত হন। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মুসলিম নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হতে যাচ্ছেন তিনি।
মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তার ট্রানজিশন বা অভিষেক কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ৯ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। তারা হলেন- নাগরিক আন্দোলনের নেত্রী কাজী ফৌজিয়া, জনসংগঠক আব্দুল আজিজ ভূঁইয়া, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা শামসুল হক, আসালের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ করিম চৌধুরী, ফারিহা আক্তার, আরমান চৌধুরী সিপিএ, শাহ রেহমান, তাজিন আজাদ এবং শ্যামতলী হক।
নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি মুসলমানদের বিপুল সমর্থন মামদানির বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। নির্বাচনে শতকরা ৯৮ ভাগ বাংলাদেশি মুসলমান তাকে ভোট দিয়েছেন এবং প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। অভিষেক কমিটিতে বাংলাদেশিদের অন্তর্ভুক্ত করে মামদানি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অতীতে বাংলাদেশিদের এমন মর্যাদাপূর্ণ কমিটিতে স্থান পাওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন। এবার তারা নিজেদের যোগ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে জায়গা করে নিয়েছেন।
অভিষেক কমিটির সদস্য সংখ্যা ৪০০ জনের বেশি। এর মধ্যে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় ৯ জন বাংলাদেশি, ১১ জন পাকিস্তানি এবং ১৬ জন ভারতীয় রয়েছেন। ভারতীয় ও পাকিস্তানিদের মধ্যে পাঞ্জাবি, ইন্দো-ক্যারিবিয়ানসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে।
বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা মনে করছেন, নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে তাদের দীর্ঘদিনের কাজের ফল এবার দৃশ্যমান হয়েছে। মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের জন্য এটি এক বিরল স্বীকৃতি। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরো বেশি বাংলাদেশি মূলধারার রাজনীতিতে অংশ নেবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।
সব মিলিয়ে জোহরান মামদানির অভিষেক কমিটিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অন্তর্ভুক্তি শুধু কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয় নয়, বরং মার্কিন রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করেছে।
logo-1-1740906910.png)