Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বাড়তি ফি; সংকটে বিদেশি চিকিৎসকরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫২

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বাড়তি ফি; সংকটে বিদেশি চিকিৎসকরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়তে থাকা এইচ-১বি ভিসা ফি বিদেশি চিকিৎসকদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক জানিয়েছেন, অভিবাসী চিকিৎসকরা আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু নতুন ভিসা নীতির কারণে তাদের অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ সংবাদটি প্রকাশ করেছে। 

এইচ-১বি ভিসা মূলত দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক এই ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অবহেলিত এলাকায় যেখানে স্থানীয় চিকিৎসক পাওয়া কঠিন, সেখানে অভিবাসী চিকিৎসকরাই স্বাস্থ্যসেবার মূল ভরসা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভিসা ফি বাড়ানোয় অনেক চিকিৎসকের জন্য এটি আর্থিকভাবে চাপ তৈরি করছে।  

হার্ভার্ডের গবেষকরা বলছেন, অভিবাসী চিকিৎসকরা শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, বরং গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষায়ও অবদান রাখছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতাল ও মেডিকেল সেন্টারগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। ভিসা ফি বাড়ানোয় অনেকেই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন না, যা স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট তৈরি করবে।  

যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসক অভিবাসী। তাদের মধ্যে অনেকেই ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশ থেকে এসেছেন। এরা সাধারণত কম সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকায় কাজ করেন, যেখানে স্থানীয় চিকিৎসকরা যেতে চান না। ফলে অভিবাসী চিকিৎসকদের অবদান সরাসরি জনগণের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত।  

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভিসা ফি বাড়ানো হলে নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকরা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে নিরুৎসাহিত হবেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যসেবায় ঘাটতি দেখা দেবে। বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি চিকিৎসায় সংকট আরো বাড়বে।  

গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, অভিবাসী চিকিৎসকদের ওপর চাপ বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত ভিসা ফি পুনর্বিবেচনা করা এবং অভিবাসী চিকিৎসকদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা।  

সব মিলিয়ে, অভিবাসী চিকিৎসকরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবার অপরিহার্য অংশ। তাদের জন্য ভিসা ফি বাড়ানো শুধু ব্যক্তিগত চাপ নয়, বরং জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

Logo