ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় আদালতের বাধা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৫১
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুত বহিষ্কার (ফাস্ট-ট্র্যাক ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া সম্প্রসারণের উদ্যোগ আটকে দিয়েছে। আদালত বলেছে, এ নীতি অভিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার, বিশেষ করে ‘ডিউ প্রসেস’ বা ন্যায্য শুনানির অধিকার লঙ্ঘন করছে। দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা এ নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ প্রতিবেদন।
২২ নভেম্বর ডিসি সার্কিট কোর্টের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ ২-১ ভোটে সিদ্ধান্ত দেয় যে, প্রশাসন নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে জেলা আদালতের বিচারক জিয়া কব্বের দেওয়া আগের আদেশ বহাল থাকে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তিকে যদি মনে করে তিনি দুই বছরের কম সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন, তবে তাকে দ্রুত বহিষ্কার করার নীতি অবৈধ।
আদালতের দুই বিচারক প্যাট্রিসিয়া মিলেট ও জে মিশেল চাইল্ডস বলেন, প্রশাসন অভিবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারছে না। তারা সতর্ক করেন, এ নীতি প্রয়োগ করলে অনেক নিরপরাধ অভিবাসী ভুলভাবে বহিষ্কৃত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। অন্যদিকে ট্রাম্প মনোনীত বিচারক নাওমি রাও ভিন্নমত পোষণ করে বলেন, নিম্ন আদালতের রায় বিচার বিভাগের অযাচিত হস্তক্ষেপ।
ট্রাম্প প্রশাসন জানুয়ারি মাসে দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়ার পরিধি বাড়িয়ে দেয়। আগে এটি শুধু সীমান্তে আটক অভিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। নতুন নীতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো জায়গায় আটক হওয়া অভিবাসী যদি প্রমাণ করতে না পারেন যে তিনি দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে আছেন, তবে তাকে দ্রুত বহিষ্কার করা যাবে।
এই নীতি ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের উদ্যোগের মতোই, যা পরবর্তী সময়ে বাইডেন প্রশাসন বাতিল করেছিল। অভিবাসী অধিকার সংগঠন ‘মেক দ্য রোড নিউ ইয়র্ক’ এ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করে এবং আদালত তাদের পক্ষ নেয়।
আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন বা ‘ক্রেডিবল ফিয়ার’ যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আনা যেতে পারে। তবে মূলনীতি বহাল থাকবে না। প্রশাসনের আপিল শুনানি আগামী ৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।
প্রায় তিন দশক ধরে দ্রুত বহিষ্কার প্রক্রিয়া সীমান্তে আটক অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু এর পরিধি বাড়িয়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে প্রয়োগের চেষ্টা আদালত আটকে দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এ সিদ্ধান্ত অভিবাসীদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।
logo-1-1740906910.png)