মার্কিন রাজনীতিতে অভিবাসন সব সময়ই বড় ইস্যু। বিশেষ করে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসা নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক এক ভাষণে আবারো এই ভিসা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন।
বহুল আলোচিত এইচ-১বি ভিসা বাতিলের প্রস্তাব উঠেছে নতুন একটি বিলের মাধ্যমে। এই ভিসা মূলত বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রযুক্তি খাতে। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থিত এই বিল কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার আরো সংকুচিত হয়ে পড়বে।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় নাগরিকদের চাকরির সুযোগ রক্ষা করা জরুরি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রযুক্তি ও গবেষণার মতো খাতে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। তার বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি অভিবাসন নীতিতে এক ধরনের “ব্যালান্সিং অ্যাক্ট” করতে চাইছেন অর্থাৎ স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে হলেও বিদেশি দক্ষ জনবল পুরোপুরি বাদ দিতে চান না।
এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে অনেক তরুণ এই ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যান। প্রযুক্তি খাতের বড় কোম্পানি যেমন গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন; এদের অনেক কর্মীই এই ভিসাধারী। ট্রাম্পের মন্তব্যে আবারো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই ভিসা সীমিত বা বাতিল হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পে বিদেশি কর্মীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ছাড়া অনেক কোম্পানি দক্ষ জনবল সংকটে পড়বে। অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মীদের জন্য চাকরির প্রতিযোগিতা কমাতে ট্রাম্পের অবস্থান রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় হতে পারে। ফলে বিষয়টি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুই দিক থেকেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও এবার তিনি কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। স্থানীয় কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা ও বিদেশি দক্ষ জনবল ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই তার লক্ষ্য। তবে এইচ-১বি ভিসা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
logo-1-1740906910.png)