Logo
×

Follow Us

উত্তর আমেরিকা

কাবেরী মৈত্রেয়, নিউইয়র্ক থেকে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হতে যাওয়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা বন্ধ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৮

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হতে যাওয়া ব্যক্তিদের আইনি সহায়তা বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত হতে পারেন এমন অভিবাসীদের জন্য আইনি শিক্ষার কর্মসূচির তহবিল সাময়িকভাবে বন্ধ করার জন্য বিচার বিভাগকে অনুমতি দিয়েছে ফেডারেল বিচারক।

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক র‌্যান্ডলফ ডি মস এই রায় দেন। ফলে স্বেচ্চাসেবী যেসব প্রতিষ্ঠান অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করেন, আইনি লড়াইয়ের সুবিধা দিয়ে থাকেন, তাদের ফেডারেল তহবিল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। এমনকি ডিটেনশন সেন্টারে থাকা সম্ভাব্য মক্কেলদের কাছে যাওয়ার অধিকারও তারা হারাতে পারেন।

মঙ্গলবার একজন ফেডারেল বিচারক যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে সাময়িকভাবে অভিবাসনবিরোধী আদালতে থাকা বা ফেরত পাঠানোর মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের জন্য পরিচালিত আইনি শিক্ষামূলক কর্মসূচির তহবিল বন্ধ করার অনুমতি দিয়েছেন, যতক্ষণ না এই সংক্রান্ত মামলাটি আদালতে নিষ্পত্তি পাচ্ছে।

ওয়াশিংটন ডিসির ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ র‍্যান্ডলফ ডি মসের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেসব অলাভজনক সংস্থা অভিবাসীদের জন্য এসব আইনি শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করে, তারা গত বুধবার থেকেই তাদের ফেডারেল তহবিল হারাবে। এমনকি কিছু বন্দিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও হারাতে পারে।

অপরাধমূলক মামলার মতো নয়, অভিবাসন আদালত বা আটক কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিরা যদি নিজের পক্ষে আইনজীবী রাখতে না পারেন, তাহলে সরকার তাদের জন্য আইনজীবী সরবরাহ করতে বাধ্য নয়। এই আইনি শিক্ষামূলক প্রোগ্রামগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন যারা, তারা বলেন- এসব কর্মসূচি অভিবাসন বিচারকদের উপর চাপ কমায় এবং অভিবাসীদের জন্য জটিল আইনি প্রক্রিয়া বুঝে এগোনো সহজ করে তোলে।

কংগ্রেস প্রতি বছর ২৯ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয় চারটি প্রোগ্রামের জন্য। সেগুলো হলো লিগ্যাল ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম (LOP), ইমিগ্রেশন কোর্ট হেল্পডেস্ক (ICH), ফ্যামিলি গ্রুপ লিগ্যাল ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম (FGLOP) এবং কাউন্সেল ফর চিলড্রেন ইনিশিয়েটিভ। এই সংস্থাগুলো পরে সেই অর্থ দেশব্যাপী বিভিন্ন উপ-ঠিকাদার সংস্থায় বিতরণ করে।

গত ২২ জানুয়ারি ট্রাম্পের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে বিচার বিভাগ প্রথমে অলাভজনক সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেয় “অবিলম্বে কাজ বন্ধ করতে”। এরপর সংস্থাগুলো আইনি লড়াই শুরু করলে বিচার বিভাগ আদেশটি প্রত্যাহার করে। কিন্তু ১১ এপ্রিল আবার জানানো হয়, ১৬ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই সংস্থাগুলোর সঙ্গে থাকা চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার শুনানির সময় বিচারক মস উভয় পক্ষের আইনজীবীদের জানান, তিনি এই মুহূর্তে তহবিল স্থগিত করার আদেশ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট জরুরি কারণ দেখছেন না। তবে তিনি বলেন, মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরো তথ্য প্রয়োজন।

অলাভজনক সংস্থাগুলোর পক্ষে আইনজীবী লরা স্টারজেস বলেন, জানুয়ারিতে যখন কাজ বন্ধের নির্দেশ আসে, তখন তাদের অভিবাসন আটক কেন্দ্রের বন্দিদের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি তথ্যবহুল পোস্টার ও শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে ফেলতেও বলা হয়। তিনি বলেন, এটি সংস্থাগুলোর মতপ্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছে এবং বন্দিদের কোনো আইনি সহায়তা ছাড়াই ফেলে রেখেছে, ফলে আদালতের উপর চাপ বেড়েছে।

স্টারজেস আরো বলেন, কংগ্রেস আগেই এই অর্থ বরাদ্দ করেছে। তাই বিচার বিভাগের এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের ব্যয়ের ক্ষমতা খর্ব করে। এছাড়া বিচার বিভাগ এ চুক্তি বাতিলের পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট যুক্তি না দেখিয়ে শুধুই "সুবিধার" কথা বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা যথেচ্ছ ও অবৈধ।

তবে বিচার বিভাগের আইনজীবী জ্যাকারি শেরউড বলেন, এটি মূলত একটি চুক্তিভিত্তিক বিরোধ এবং এটি জেলা আদালতের আওতায় পড়ে না, বরং ফেডারেল ক্লেইমস কোর্টে হওয়া উচিত।

বিচারক মস বলেন, “আমি মনে করি, এই মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল অনেক প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।” তিনি পরবর্তী শুনানির জন্য (১৪ মে) বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারা কীভাবে এই চুক্তিগুলো বাতিলের সিদ্ধান্তে এসেছে, বরাদ্দ অর্থ কীভাবে খরচ করার পরিকল্পনা আছে এবং পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে অলাভজনক সংস্থাগুলো কী কী সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তার বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক স্টেট যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ছয়টি স্টেটের একটি, যেখানে অভিবাসন মামলায় ৫০ শতাংশের বেশি অভিবাসী আইনজীবী দ্বারা প্রতিনিধিত্ব পান। এতে রাজ্য ও সিটি অনুদানের যেমন ভূমিকা আছে, তেমনি স্বেচ্ছাসেবী আইনজীবীদের অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ফেডারেল তহবিল এই ব্যবস্থার একটি বড় অংশ।

স্ট্রস জানান, নিউইয়র্কে হেল্পডেস্ক পরিচালনার জন্য যে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের ফেডারেল অনুদান ছিল, সেটি অন্যান্য সংস্থাও নির্ভর করে অভিবাসন মামলার ছাঁটাই বা প্রাথমিক মূল্যায়নের জন্য।  

তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে আজই ICH এবং FGLOP-এর শেষ দিন। কারণ ফেডারেল সরকার আমাদের চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

শুনানিতে অভিবাসীরা বলেন, তারা নাম প্রকাশ না করে সাক্ষ্য দিচ্ছেন। কারণ ICE-এর লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কা আছে। তারা জানান, বৈধ আইনি সহায়তার অভাবের কারণেই তারা প্রতারণার শিকার হন। আর এতে তাদের হাজার হাজার ডলার ক্ষতি হয়।

শুনানিতে সিটি কাউন্সিল মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত অভিবাসন পরিষেবা বিজ্ঞাপন দেওয়া প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা করে।

Logo