যুক্তরাজ্যে স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ, থাকছে যেসব শর্ত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ২২:১৭
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভিসানীতির কিছু নিয়ম স্পষ্ট করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট মেয়াদের কোর্স ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে বিদেশিদের পূর্ণাঙ্গ স্টুডেন্ট ভিসা নিতে হবে না। ছয় মাসের কম সময়ের কোর্সসহ কয়েক ধরনের প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও শিক্ষাবিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেয়া যাবে স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর অনুমতির আওতায়।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত নির্দেশনায় বিদেশিদের জন্য শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিভিন্ন সুযোগ ও শর্ত তুলে ধরেছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইরাসমাস প্লাস (Erasmus+) কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য কোন ধরনের ভিসা বা প্রবেশ অনুমতি প্রয়োজন, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশিরা যুক্তরাজ্যের স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বল্পমেয়াদি কোর্স করতে পারবেন। এছাড়া স্কুল বিনিময় কর্মসূচি, শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের আনুষ্ঠানিক বিনিময় কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা প্রদান, কর্মশালা, সেমিনার ও সম্মেলনে অংশ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে চাকরির কাজ পর্যবেক্ষণ (জব শ্যাডোয়িং), ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ এবং স্বল্পমেয়াদি ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমেও অংশ নেয়া যাবে।
এসব কার্যক্রমের জন্য সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর অনুমতি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ ও কার্যক্রমের শর্ত পূরণ করতে হবে। শুধু স্বল্পমেয়াদি কোর্স হলেই সব ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার প্রয়োজনীয়তা উঠে যাবে না।
ইরাসমাস প্লাস কর্মসূচির আওতায় তরুণদের জন্যও রয়েছে বিশেষ সুযোগ। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুব বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও নেটওয়ার্কিং আয়োজন, শিক্ষাসফর এবং বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিতে পারবেন বিদেশি তরুণেরা। যুবকর্মীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতিমূলক সফরেও অংশ নিতে পারবেন।
এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সী বিদেশিদের জন্য রয়েছে বিশেষ বিধান। কোনো শিক্ষার্থী বা প্রশিক্ষণার্থী সর্বোচ্চ ৩০ দিনের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যুক্তরাজ্যে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে স্ট্যান্ডার্ড ভিজিটর অনুমতি পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চাইল্ড স্টুডেন্ট ভিসার প্রয়োজন হবে না।
তবে দীর্ঘমেয়াদি বা নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রমের ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট ভিসার বাধ্যবাধকতা বহাল থাকছে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী বিদেশিরা উচ্চশিক্ষা, পরবর্তী পর্যায়ের শিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানভিত্তিক কোর্সে অংশ নিতে চাইলে সাধারণত স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির যুক্তরাজ্য সরকারের অনুমোদিত স্পন্সর লাইসেন্স থাকতে হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীকে ‘কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ’ (CAS) নিতে হবে।
অন্যদিকে, ৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে চাইল্ড স্টুডেন্ট ভিসার ব্যবস্থা। যুক্তরাজ্যের নির্ধারিত অংশগ্রহণকারী স্কুলে পড়াশোনা করতে আগ্রহীদের এ ভিসার আওতায় আবেদন করতে হবে। ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে কর্মভিত্তিক উপাদান রয়েছে এমন কোর্স করার সুযোগও থাকছে।
যুক্তরাজ্যের নতুন নির্দেশনায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্পমেয়াদি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার পথ আরো স্পষ্ট হয়েছে। তবে ভ্রমণের আগে নিজের বয়স, কোর্সের মেয়াদ, শিক্ষার ধরন এবং প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন যাচাই করে সঠিক ভিসা বা প্রবেশ অনুমতির আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
logo-1-1740906910.png)