Logo
×

Follow Us

এশিয়া

টোকিওতে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি প্রবাসীদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:০২

টোকিওতে বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি প্রবাসীদের

প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে বানানো

জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের মাতৃভাষা, নিজস্ব ইতিহাস ও দেশীয় সংস্কৃতি শেখাতে সে দেশের রাজধানী টোকিওতে একটি বাংলা স্কুল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিসহ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

প্রবাসীদের ভাষ্য, জাপানের মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে তাদের আপত্তি নেই। বরং জাপানি ভাষা ও শিক্ষায় দক্ষ হয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠুক, সেটিই তাদের প্রত্যাশা। তবে এর পাশাপাশি বাংলা ভাষা, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি শেখার সুযোগও থাকা প্রয়োজন।

বর্তমানে জাপানে প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যাদের একটি বড় অংশ পরিবার নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদে সেখানে অবস্থান করছেন। সেখানকার আন্তর্জাতিক মানের স্কুলগুলোতে পড়াশোনার খরচ অনেক বেশি। ফলে সাধারণ আয়ের বাংলাদেশি পরিবারের পক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়ানো কঠিন।

অন্যদিকে জাপানি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পড়াশোনা এবং বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার সুযোগ সীমিত। এ অবস্থায় টোকিওতে বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা গেলে নতুন প্রজন্মের সাথে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করেন অভিভাবকেরা।

টোকিওর আকাবানের কিরিগাওয়াকা এলাকায় ২২ বছর ধরে বসবাস করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আলতাফ কাশেম। তিনি জানান, শুধু তাদের এলাকাতেই ৭০টির বেশি বাংলাদেশি পরিবারের প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু রয়েছে। সন্তানদের জন্য একটি বাংলা স্কুলের জরুরি প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক স্কুলের উচ্চ ব্যয় সাধারণ পরিবারের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। তাই বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা বোর্ডের অধীনে টোকিওতে একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্কুল গড়ে তোলা প্রয়োজন।

২৩ বছর ধরে জাপানে থাকা সাঈদ সিদ্দিকী জানান, কেবল ভাষা শেখাই নয়, প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের পারিবারিক মূল্যবোধ, শ্রদ্ধাবোধ ও আত্মীয়তার বন্ধন শেখাতে এ ধরনের একটি স্কুল বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে অভিভাবকরা নিজস্ব উদ্যোগে সীমিত পরিসরে সন্তানদের বাংলা ও আরবি শেখালেও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো না থাকায় তৃতীয় শ্রেণির পর তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিষয়টি সমর্থন করে জাপানের সেন্ট লুক’স ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি নিজের শিকড় ও পরিচয় ধারণের অন্যতম উপায়।’ তিনি প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের দ্বিমুখী সাংস্কৃতিক বিকাশ নিশ্চিত করতে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেন।

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মতো জাপানেও সরকারি শিক্ষাক্রমভিত্তিক বাংলা স্কুলের সুযোগ চালুর দাবি জানান প্রবাসীরা। তারা মনে করেন, বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড ও জাপানের স্থানীয় প্রশাসনিক বিধিবিধানের সমন্বয় ঘটিয়ে উদ্যোগ নিলে টোকিওতে এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সম্ভব।

Logo