বিদেশ ভ্রমণে বিমানবন্দরে লাগেজ র্যাপিং করবেন কিনা, এ প্রশ্ন অনেক যাত্রীর মধ্যেই থাকে। বিশেষ করে প্রথমবার বিদেশ ভ্রমণকারী এবং প্রবাসীদের মধ্যে এ বিষয়ে কৌতূহল বেশি দেখা যায়। তবে বাস্তবতা হলো, বিমানবন্দর বা কোনো এয়ারলাইন্স যাত্রীদের লাগেজ র্যাপ করতে বাধ্য করে না। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
যদিও বাধ্যতামূলক নয়, তারপরও নিরাপত্তার কারণে অনেক যাত্রী লাগেজ র্যাপ করিয়ে থাকেন। প্লাস্টিক র্যাপিংয়ের ফলে ব্যাগের জিপার বা চেইন সহজে খোলা যায় না, ফলে চুরি বা ব্যাগে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু প্রবেশ করিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে বৃষ্টি, ময়লা বা পরিবহনের সময় সৃষ্ট স্ক্র্যাচ থেকেও লাগেজ কিছুটা সুরক্ষিত থাকে।
ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব যাত্রী মূল্যবান সামগ্রী বহন করেন অথবা যাদের লাগেজের লক ও জিপার তুলনামূলক দুর্বল, তাদের জন্য র্যাপিং বাড়তি নিরাপত্তা দিতে পারে। দীর্ঘ ট্রানজিট বা একাধিক বিমানবন্দর হয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এটি কিছুটা উপকারী হতে পারে।
তবে র্যাপিংয়ের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। নিরাপত্তা তল্লাশির সময় যদি কোনো দেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যাগ পরীক্ষা করার প্রয়োজন মনে করে, তাহলে তারা প্লাস্টিক কেটে ব্যাগ খুলে দেখতে পারে। সে ক্ষেত্রে র্যাপিংয়ের অতিরিক্ত খরচ কোনো কাজে আসে না। এছাড়া বিমানবন্দরে এই সেবার জন্য আলাদা ফি দিতে হয়, যা অনেক যাত্রীর কাছে অপ্রয়োজনীয় খরচ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
পরিবেশগত বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাগ র্যাপিংয়ে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়, যা পরে বর্জ্যে পরিণত হয় এবং পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অভিজ্ঞ ভ্রমণকারীদের মতে, ভালো মানের লাগেজ লক, শক্তপোক্ত লাগেজ বেল্ট এবং লাগেজে নিজের পরিচিতিমূলক ট্যাগ ব্যবহার করলে অনেক ক্ষেত্রেই র্যাপিং ছাড়াই নিরাপদে ভ্রমণ করা সম্ভব। তবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চাইলে র্যাপিং একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে।
সুতরাং লাগেজ র্যাপিং ভ্রমণের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি নিরাপত্তা ও সুরক্ষার একটি ব্যক্তিগত পছন্দনির্ভর ব্যবস্থা, যা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে।
logo-1-1740906910.png)