রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। পর্যটন খাতের উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
২৯ অক্টোবর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) মেলার ১৪তম আসরের উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন নাহার চৌধুরী।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) আয়োজিত এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘এআই-পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ছাড়াও মেলায় অংশ নিচ্ছে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব এবং আজারবাইজান। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও নেপাল অংশীদার দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কইনোলেট।
অনুষ্ঠানে ড. নুরুন নাহার চৌধুরী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও দায়িত্বশীল পর্যটনচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করতে সরকার, বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টল, ২২০টির বেশি প্রদর্শক, ২৫০ জনের বেশি ক্রেতা প্রতিনিধি এবং আড়াই হাজারের বেশি বাণিজ্যিক দর্শনার্থী অংশ নিচ্ছেন। তিন দিনে ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
চারটি বিষয়ভিত্তিক হলে আয়োজিত এ মেলায় ট্যুর অপারেটর, বিমান সংস্থা, হোটেল, ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন খাতের পেশাজীবীরা অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ এবং অংশীদারিত্বের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ধারাবাহিক সফল আয়োজনের ফলে বিটিটিএফ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এ মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো ব্যাপকভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
আয়োজকরা জানান, এবারের মেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং টেকসই গন্তব্য উন্নয়নের বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেলা আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
logo-1-1740906910.png)