গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘জাতিগত নিধনের মতো অপরাধ’ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইসরায়েলসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাবলি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ‘গাজার ফিলিস্তিনিদের সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করার লক্ষ্যে জাতিগত নিধনের মতো কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে।’ একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।
তদন্ত কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময়েও গাজায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী অস্ত্র, ড্রোন, আর্টিলারি গোলাবর্ষণ এবং স্নাইপার হামলা অব্যাহত ছিল। কমিশনের দাবি, তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা যুদ্ধবিরতি সীমারেখাও ধীরে ধীরে গাজার অভ্যন্তরে সম্প্রসারিত হয়েছে, যা ভূখণ্ডগত নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে।
পশ্চিম তীর পরিস্থিতি নিয়ে কমিশন জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে সেখানে বিমান হামলা ও সামরিক অভিযানে প্রাণহানির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর ধ্বংস, উচ্ছেদ এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রীনিবাসন মুরালিধর বলেন, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এবং বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনাগুলো বৃহত্তর বাস্তুচ্যুতি নীতির অংশ বলে মনে হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পরিচালিত সামরিক অভিযানের ফলে পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৩৪ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।
তবে ইসরায়েল সরকার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। জেনেভায় ইসরায়েলের মিশন একে ‘অপতথ্যভিত্তিক প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছে।
ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানিয়েল মেরন এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের কিছু প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে অস্বীকার করছে এবং দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করা হয়েছে। কমিশনের মতে, কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতাবলম্বী ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
logo-1-1740906910.png)