ফ্লাইট বাতিল: চাকরি হারানোর আতঙ্কে ২২ হাজার প্রবাসী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২
সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আকাশসীমা ও বিমান চলাচলে বিধিনিষেধের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী প্রবাসীদের সংকট চরম রূপ নিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে চাকরি হারানো এবং আকামার (বাসস্থান অনুমতিপত্র) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছেন অন্তত ২২ হাজার ২১ জন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ (বেবিচক)-এর ২৪ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ১৪৪টি সরাসরি ও ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিলের শিকার হয়েছে।
বেবিচক জানায়, বাতিল হওয়া ১৪৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি এবং ৭৭টি বিভিন্ন দেশের সংযোগকারী (ট্রানজিট) ফ্লাইট। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৮টি, সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের (সৌদিয়া) ১৯টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় সংস্থা ইন্ডিগোর ৩০টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, এয়ার ইন্ডিয়া ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি করে এবং সালাম এয়ারের ৭টি ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফলে ছুটি কাটাতে এসে বিমানবন্দরে পরিবার নিয়ে প্রবাসীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছেন।
ছুটি কাটাতে দেশে আসা প্রবাসী কর্মীদের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সৌদি নিয়োগকর্তার কাছে যোগ দিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে নিয়োগকর্তারা তাদের চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি 'হুৰুব' বা অনুপস্থিতির আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। ৩-৪ লাখ টাকা ঋণ ও ভিটেমাটি বিক্রি করে সৌদি পাড়ি দেওয়া আল-আমিনের মতো বহু কর্মী জানান, টিকিটের কনফার্মেশন পেয়েও বিমানবন্দরে গিয়ে বোর্ডিংয়ের আগে ফ্লাইট বাতিলের খবর পাচ্ছেন।
অনেকে চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বিকল্প উপায়ে বাসে কিংবা অন্যান্য শহর ঘুরে মদিনা ও জেদ্দা দিয়ে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন, যাতে অতিরিক্ত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বাড়তি অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ এবং ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মামগামী সব ফ্লাইট আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনা করে জেদ্দা ও মদিনা রুটে সীমিত পরিসরে সরাসরি ফ্লাইট চালু রয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও অন্তত ২৬ জন আহত হওয়ার পর প্রবাসীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সংঘাতময় পরিস্থিতির কারণে যেসব প্রবাসী সময়মতো ফিরতে পারছেন না, সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের ভিসা ও আকামার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। এছাড়া যেসব প্রবাসী চাকরি হারাবেন, তাদের জন্য পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা)-এর প্রতিনিধি মোস্তাক আহমেদ প্রবাসীদের দ্রুত ফেরত পাঠাতে বিশেষ চার্টার্ড বা অতিরিক্ত ফ্লাইট চালুর তাগিদ দিয়েছেন। তিনি পরামর্শ দেন, রিয়াদ ও দাম্মাম বন্ধ থাকলেও চালু থাকা মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে বিমান চলাচলের সংখ্যা বাড়িয়ে সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ বাসে কর্মীদের কর্মস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
logo-1-1740906910.png)