মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে আগের চেয়েও একচেটিয়া সিন্ডিকেটের আশঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:২৮
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালুর ঘোষণার পর কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বায়রার সাবেক নেতাদের অভিযোগ, আগেরবার ১০০টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে ঘিরে যে সিন্ডিকেট ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, এবার তা আরো সীমিত হয়ে ২৫টি মূল এজেন্সির হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, ৩১২টি এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা বলা হলেও মূল এজেন্সিগুলোর ওপর নির্ভরশীলতার কারণে অন্যদের স্বাধীনভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে।
গত ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে বায়রার সাবেক নেতাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হলেও এ বিষয়ে কোনো গোলটেবিল বৈঠক ছাড়াই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে শ্রমবাজার চালুর প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বায়রার সাবেক নেতাদের একজন ফখরুল ইসলাম জানান, আগের ব্যবস্থায় ১০০টি মূল এজেন্সির অধীনে ৮০০টির বেশি এজেন্সি সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করত। নতুন ব্যবস্থায় ২৫টি মূল এজেন্সির সঙ্গে ৩১২টি এজেন্সিকে যুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সংযুক্ত এজেন্সিগুলোকে কর্মী পাঠাতে মূল এজেন্সির কাছ থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হলে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হতে পারে। এতে কর্মী পাঠানোর নিয়ন্ত্রণ আরও অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টার নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তাদের দাবি, ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সি ও ১৭টি মেডিকেল সেন্টার কী মানদণ্ডে নির্বাচন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আগের সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা থাকার অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বায়রার সাবেক নেতাদের অভিযোগ, ২৫টি এজেন্সির তালিকাভুক্তির জন্য প্রায় ৫০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত এবং মেডিক্যাল সেন্টার তালিকাভুক্তির জন্য প্রায় ২০ লাখ রিঙ্গিত লেনদেন হয়েছে। এছাড়া বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এফডব্লিউসিএমএসের (FWCMS) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খরচ এবং মেডিকেল পরীক্ষায় কর্মীপ্রতি কমিশন দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নতুন ব্যবস্থার বাইরে থাকা বায়রার প্রায় আড়াই হাজার সদস্য কীভাবে কর্মী পাঠাবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে দাবি সাবেক নেতাদের। তাদের মতে, কর্মীদের কাছ থেকে কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হবে, মোট অভিবাসন ব্যয় কত হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায় বন্ধে কী ব্যবস্থা থাকবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান ব্যবস্থায় একজন কর্মীর অভিবাসন ব্যয় ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বায়রার সাবেক নেতারা বলছেন, শ্রমবাজার চালুর আগে নির্বাচনপ্রক্রিয়া, এজেন্সিগুলোর ভূমিকা, ফি এবং কর্মীদের ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করা জরুরি। তাদের মতে, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে নতুন ব্যবস্থাতেও সিন্ডিকেটের প্রভাব বাড়তে পারে, যার আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত পড়বে বিদেশগামী কর্মীদের ওপর।
logo-1-1740906910.png)