ইয়েমেনের হুতি সামরিক গোষ্ঠী আবারো সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে।
গোষ্ঠীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া কাসিম সারী এক বিবৃতিতে বলেন, বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং সেটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।
তবে হামলাটি ঠিক কখন সংঘটিত হয়েছে কিংবা এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সৌদি আরবের পাঁচটি বিমানবন্দরে অন্তত ১০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২০ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে।
সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখানে পাঁচটি পৃথক হামলায় ১৮ জন নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি হামলা এবং আবহা, জাজান ও নাজরান বিমানবন্দরে একটি করে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, কিং খালিদ বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে একটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। এতে আগুন ধরে গেলে একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আরো ১১ জন আহত হন।
এর আগে শনিবারের এক হামলায় ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরে সেই স্থগিতাদেশের মেয়াদও বাড়ানো হয়।
সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ হামলাগুলোর দায় সরাসরি কারো ওপর না চাপালেও সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট কয়েকটি হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে। অন্যদিকে হুতি গোষ্ঠীও সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দায় স্বীকার করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদিতে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী, বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে রিয়াদগামী একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তিও বেড়েছে।
logo-1-1740906910.png)