ব্র্যাক মাইগ্রেশন ও মাইগ্রেশন কনসার্নের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৮
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার প্রবণতা কমানো, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসনে যৌথভাবে কাজ করবে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও অভিবাসনবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মাইগ্রেশন কনসার্ন।
এ লক্ষ্যে বুধবার রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টারে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় এ চুক্তি হয়।
নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান এবং মাইগ্রেশন কনসার্নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এ সময় মাইগ্রেশন কনসার্নের প্রধান সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ও বার্তা পরিচালক মাহবুব স্মারক উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা অনুযায়ী, অনিয়মিত পথে বিদেশযাত্রার ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা, মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি, বৈধ পথে অভিবাসনে উৎসাহিত করা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণে যৌথ প্রচারাভিযান চালাবে দুই প্রতিষ্ঠান। এ উদ্যোগের আওতায় তৈরি করা হবে তথ্যচিত্র, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট। প্রবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশব্যাপী তথ্যভিত্তিক প্রচার কর্মসূচিও শুরু হবে শিগগির।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, দালালদের প্রলোভনে পড়ে ভূমধ্যসাগর ও বঙ্গোপসাগরের ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিয়ে অনেকে সহায়-সম্বল হারাচ্ছেন। প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। বিদেশগমনেচ্ছুকদের কাছে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে মাইগ্রেশন কনসার্নের সঙ্গে এই উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
মাইগ্রেশন কনসার্নের প্রধান সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, তথ্যের অভাব ও অসচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে মানব পাচারকারী চক্র সক্রিয় হয়। তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তরুণদের জীবন বাজি রেখে অবৈধপথে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত রাখাই আমাদের লক্ষ্য।
মাইগ্রেশন কনসার্নের পরিচালক মাহবুব স্মারক জানান, অভিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের কাছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পৌঁছে দেওয়াই প্রতিষ্ঠানটির মূল অঙ্গীকার। ব্র্যাক মাইগ্রেশন ও মাইগ্রেশন কনসার্নের এই যৌথ উদ্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ অংশীদারিত্ব নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশফেরত কর্মীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা ও সমাজে পুনরেকত্রীকরণের পথ আরো সহজ করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ, সিনিয়র ম্যানেজার আজিজ আহমেদ, টেকনিক্যাল এক্সপার্ট সাবিনা সাঈদ, ম্যানেজার সালেহ রাব্বী জ্যোতিসহ অনেকে।
logo-1-1740906910.png)