Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

বিদেশে নির্যাতন, দেশে ফিরেও অপমান: মানবেতর জীবন নারী শ্রমিকদের

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৮

বিদেশে নির্যাতন, দেশে ফিরেও অপমান: মানবেতর জীবন নারী শ্রমিকদের

বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি নারী শ্রমিক নির্যাতন, প্রতারণা ও শোষণের শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন। কিন্তু দেশে ফিরে নতুন জীবন শুরু করার পরিবর্তে তাদের অনেককে মোকাবিলা করতে হচ্ছে সামাজিক অবজ্ঞা, পারিবারিক সন্দেহ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

ভুক্তভোগী নারী শ্রমিকদের অভিযোগ, বিদেশে নির্যাতনের অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ওঠার আগেই দেশে ফিরে তারা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও মানসিক চাপে পড়ছেন। প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন এমনকি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও অনেক সময় সহমর্মিতা নয়, বরং প্রশ্ন, সন্দেহ এবং কটূক্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

নরসিংদীর রনি বেগম ভালো আয়ের আশায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেখানে কাজ না পাওয়া, প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরতে বাধ্য হন।

তার ভাষায়, বিদেশে যাওয়ার চেয়ে দেশে ফিরে মানুষকে জবাব দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই তার বিদেশফেরতের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দূরত্ব তৈরি করেন।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান সাতক্ষীরার সুমি বেগম। তিনি বলেন, সৌদি আরবে কাজ করেও দীর্ঘ সময় বেতন পাননি। দেশে ফেরার পরও স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাননি। তার অভিযোগ, সমাজের অনেক মানুষ তাকে নেতিবাচকভাবে দেখেন, যদিও সংসারের প্রয়োজনে কাজের জন্য বিদেশে যাওয়া ছাড়া তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

সুনামগঞ্জের তাহিরুন্নেসার অভিজ্ঞতাও একই রকম। অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফেরার পরও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার সংকটে ভুগছেন। তার দাবি, আত্মীয়স্বজনের অনেকেই তাকে এড়িয়ে চলেন এবং সামাজিক অনুষ্ঠানেও আগের মতো গুরুত্ব দেন না।

প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের প্রণীত ‘প্রত্যাগত অভিবাসীকর্মী পুনঃএকত্রীকরণ নীতি, ২০২৫’-এ প্রত্যাগত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। নীতিমালায় নারী কর্মীদের প্রতি বৈষম্য দূর করা এবং তাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধিরও নির্দেশনা রয়েছে।

তবে বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, নীতিমালা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর সহায়তা মেলে না।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের অভাব। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ১ লাখ ৭২ হাজার ২০৮ জন নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গেছেন সৌদি আরবে, প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার। এরপর রয়েছে জর্ডান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লেবানন ও কুয়েত।

এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রত্যাগত নারী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ও ঝুঁকিতে থাকা নারীদের স্বাবলম্বী করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


Logo