বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৬
বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিদের দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যয় মেটাতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিলের অর্থ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
কর্মসূচির আওতায় একজন বিদেশগামী কর্মী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন তফাদার জানিয়েছেন, ১ হাজার কোটি টাকার তহবিলটি ২০০ কোটি টাকা করে পাঁচ ধাপে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে দেওয়া হবে।
প্রতিটি কিস্তির অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কিনা, তা মূল্যায়নের পর পরবর্তী কিস্তি ছাড় করা হবে।
ঋণের প্রধান সুবিধা
- সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ: ১০ লাখ টাকা
- জামানত প্রয়োজন হবে না
- সর্বোচ্চ সুদের হার: ৯ শতাংশ
- প্রাথমিক ঋণ মেয়াদ: ৩ বছর
- গ্রেস পিরিয়ড: ৬ মাস
বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ বছর পর্যন্ত করা যাবে। তবে ঋণ পেতে দুইজন গ্যারান্টর প্রয়োজন হবে।
একজনকে হতে হবে আবেদনকারীর নিকটাত্মীয় বা পরিবারের সদস্য। অন্যজন হতে হবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তি।
ঋণের অর্থ ব্যবহার করা যাবে:
- ভাষা প্রশিক্ষণের টিউশন ফি
- কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
- বিদেশে কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত নির্ধারিত প্রশিক্ষণ ব্যয়অনুমোদিত ক্ষেত্রে থাকা-খাওয়ার খরচ
তবে বিমানের টিকিট কেনার জন্য এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে না।
যেসব বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যেতে চান, তারা এই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীরা এই সুবিধা পাবেন না।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম বলেছেন, সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো বৈধ নিয়োগপথে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিরা ব্যাংকের অভিবাসন ঋণ নীতিমালার আওতায় আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীর প্রয়োজন হবে:
- বৈধ পাসপোর্ট
- বৈধ ভিসা
- সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি (যেখানে প্রযোজ্য)
- ভাষা বা দক্ষতা প্রশিক্ষণের যোগ্যতার সনদ
- প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষাকেন্দ্রের অফার লেটার
অফার লেটারে টিউশন ফি, প্রশিক্ষণের মেয়াদ এবং থাকা-খাওয়ার ব্যয় কে বহন করবে, তা উল্লেখ থাকতে হবে।
আবেদন করতে হবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর:
- শাখা পর্যায়ে তথ্য যাচাই করা হবে
- পরে আবেদন প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে
- অনুমোদন হলে সংশ্লিষ্ট শাখায় নির্দেশনা যাবে
- চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আবেদনকারীকে শাখায় গিয়ে ঋণ গ্রহণের সম্মতি দিতে হবে
তবে আবেদন করার জন্য শুরুতে ব্যাংক শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে অনুসরণ করা যাবে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ৪৮১ জন আবেদনকারীকে মোট ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঋণের অর্থ যেন নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যবহৃত হয়, সে জন্য দ্বিস্তরীয় মনিটরিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক-এর এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগ পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশগামী কর্মীদের ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে এই উদ্যোগ কার্যকর হলে উচ্চ বেতনের চাকরিতে বাংলাদেশিদের প্রবেশ বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে রেমিট্যান্স প্রবাহও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)