সার্বিয়ায় চাকরির নামে প্রতারণা; সতর্ক করলেন মন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪
সার্বিয়ায় চাকরির সুযোগ দেওয়ার নামে শত শত যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
৬ অক্টোবর রাজধানীর ইস্কাটনে মন্ত্রণালয়ে সার্বিয়ায় জনশক্তি প্রেরণের দাবিতে আন্দোলনরতদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, সার্বিয়ায় পাঠানোর কথা বলে একটি চক্র জনপ্রতি প্রায় ৮ লাখ টাকা করে সংগ্রহ করেছে। তবে বৈধ ভিসা, সঠিক কাগজপত্র ও ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কাউকে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ নেই।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যাদের কাগজপত্র বৈধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে, তারা যথারীতি ছাড়পত্র পাবেন। কিন্তু ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
আন্দোলনকারীদের বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মন্ত্রণালয় তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আলোচনায় জানা গেছে, তাদের অনেকেই ট্রাভেল এজেন্সি বা রিক্রুটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তারা নিজেদের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
তার অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে প্রচার করছেন যে বিএমইটি সার্বিয়াগামী কর্মীদের ছাড়পত্র দিচ্ছে না। অথচ বাস্তবে যাদের নথিপত্র বৈধ, তারা কোনো সমস্যার মুখে পড়ছেন না।
মন্ত্রী বলেন, “মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মন্ত্রণালয়ের সামনে আন্দোলনের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আইন মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশে জনশক্তি প্রেরণের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়ানো নয়, কর্মীদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “আমরা এমন কর্মী পাঠাতে চাই, যাদের চাকরি নিশ্চিত থাকবে এবং যাদের যাতায়াতসহ অন্যান্য বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করা হবে।”
মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার অনলাইন শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএসে (FWCMS) প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজনের কাজ চলছে। পুরো প্রক্রিয়াকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনার চেষ্টা করছে সরকার।
বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বিদেশি নিয়োগদাতাদের চাহিদাপত্র নিয়ে বিভিন্ন এজেন্সি মন্ত্রণালয়ের কাছে আসছে। তবে এসব চাহিদার সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে সরেজমিন অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তার মতে, বৈধতা নিশ্চিত না করে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
সরকারি জনশক্তি রপ্তানি সংস্থা বোয়েসেলের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রসঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বোয়েসেল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সংস্থাটির ভূমিকা আরো বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, বেসরকারি এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়। ফলে অনিয়মের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগের কথা বলে কিছু অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। বিশেষ করে সার্বিয়া, রোমানিয়া ও পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশের নাম ব্যবহার করে চাকরির প্রলোভন দেখানো হচ্ছে।
এ অবস্থায় বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও নিয়োগপত্রের সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
logo-1-1740906910.png)