Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

শাহজালালে বিমানকর্মীর জুতার ভেতর ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৮

শাহজালালে বিমানকর্মীর জুতার ভেতর ১৬ কোটি টাকার স্বর্ণ

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযানে প্রায় ১৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। এ ঘটনায় দুজন বিমানকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের জুতার ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল ৮০টি স্বর্ণবার। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন প্রায় ৯ দশমিক ৩৪ কেজি।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ অক্টোবর বিমানবন্দরে অবস্থান নেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ওই সময় দুবাই থেকে ঢাকায় আসা এমিরেটস এয়ারলাইনসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটের দুই বিমানকর্মীকে সন্দেহজনক মনে হলে তাদের ওপর নজরদারি শুরু করা হয়।

পরে বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় তাদের তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় জুতার ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা স্বর্ণবারের সন্ধান পাওয়া যায়।

কর্মকর্তারা জানান, দুই বিমানকর্মীর কাছ থেকে মোট ৮০টি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিটি বার প্রায় ১১৭ গ্রাম ওজনের।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণগুলো সাধারণ উপায়ে নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে জুতার ভেতরে গোপন প্রকোষ্ঠ তৈরি করে বহন করা হয়েছিল। এতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, স্বর্ণগুলো ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আনা হয়নি। বরং এর পেছনে একটি সংগঠিত চোরাচালান চক্র জড়িত থাকতে পারে।

এ কারণে আটক দুই বিমানকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বর্ণগুলো ঢাকায় এসে কার কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল, এর সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং পুরো নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তকারীরা আরও অনুসন্ধান করছেন, স্বর্ণগুলো কীভাবে দুবাই থেকে বিমানে তোলা হয়েছিল এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন নিরাপত্তা স্তর অতিক্রম করে বাংলাদেশে পৌঁছাতে সক্ষম হলো।

সাম্প্রতিক সময়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক স্বর্ণ চোরাচালানের ঘটনা ধরা পড়ছে। কখনও যাত্রীর শরীরে বেঁধে, কখনও লাগেজে লুকিয়ে, আবার কখনও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও ব্যক্তিগত সামগ্রীর ভেতরে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, স্বর্ণ চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের কারণে অনেক চোরাচালান চক্রের সদস্য এখন আইনের আওতায় আসছে।

এদিকে উদ্ধার করা স্বর্ণবারগুলো জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাথমিকভাবে এটি একটি বড় স্বর্ণ চোরাচালান প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনার পেছনে থাকা চক্র এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

Logo