সৌদিয়ানরা আনন্দ আর ঘোরাঘুরিতেই মগ্ন; শিক্ষা খাতে খরচ কম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ২০:০০
সৌদি আরবে ভোক্তাদের ব্যয়ের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে শিক্ষা খাতে ব্যয় অর্ধেকের বেশি কমে গেলেও হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিনোদন এবং গৃহস্থালি পণ্যে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সৌদি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির মোট ভোক্তা ব্যয় ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ১৩.৩৭ বিলিয়ন সৌদি রিয়ালে পৌঁছেছে। একই সময়ে পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) লেনদেনের সংখ্যা ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজারে দাঁড়িয়েছে।
খাতভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বড় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে হোটেল শিল্পে। এক সপ্তাহে হোটেল খাতে ব্যয় ২০.৭ শতাংশ বেড়ে ৩১১.১৫ মিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে। একই সময়ে এ খাতে লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে ২১.৫ শতাংশ।
রেস্তোরাঁ ও ক্যাফেতেও ব্যয়ের প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য। এ খাতে ব্যয় ১১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১.৭৬ বিলিয়ন রিয়ালে দাঁড়িয়েছে। খাদ্য ও পানীয় খাতেও ব্যয় বেড়েছে ১.৯ শতাংশ। মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.১১ বিলিয়ন রিয়াল।
বিনোদন খাতে ভোক্তাদের আগ্রহ আরো স্পষ্ট হয়েছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। এক সপ্তাহে এ খাতে ব্যয় ১৮.৫ শতাংশ বেড়ে ২৫৩.৯৭ মিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিনোদন ও সংস্কৃতি খাতে ব্যয় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭৩.৬৩ মিলিয়ন রিয়ালে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া আসবাবপত্র ও গৃহস্থালি পণ্যে ব্যয় ১৪.৫ শতাংশ বেড়ে ৫৭৬.৬১ মিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে। ব্যক্তিগত পরিচর্যাসংক্রান্ত ব্যয় বেড়েছে ১৩.৪ শতাংশ। পোশাক ও ফ্যাশনসংশ্লিষ্ট পণ্যে ব্যয়ও বেড়েছে ১১.৩ শতাংশ।
অন্যদিকে শিক্ষা খাতে দেখা গেছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় ৫১.৫ শতাংশ কমে ৮৭.৫৬ মিলিয়ন রিয়ালে নেমে এসেছে। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট লেনদেনের সংখ্যাও ৩৪.৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
অর্থনীতিবিদ তালাত হাফিজের মতে, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রীড়া, বিনোদন ও পর্যটনভিত্তিক আয়োজন বাড়ায় মানুষের অবসরকালীন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে হোটেল, রেস্তোরাঁ, বিনোদনকেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট সেবাখাতগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অক্টোবরজুড়ে চলা ‘রিয়াদ সিজন’ ভোক্তা ব্যয়ে আরো গতি আনতে পারে। বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী রাজধানীতে আসবেন। পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিও বাড়তে পারে।
তালাত হাফিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রবণতা শুধু পর্যটন নয়, সৌদি আরবের তেলবহির্ভূত অর্থনীতির সম্প্রসারণেও ভূমিকা রাখবে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণের যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, সাম্প্রতিক ভোক্তা ব্যয়ের ধারা তারই প্রতিফলন।
শহরভিত্তিক ব্যয়ের হিসাবে এখনো শীর্ষে রয়েছে রাজধানী রিয়াদ। ওই সপ্তাহে শহরটিতে মোট ৪.৬৯ বিলিয়ন রিয়াল ব্যয় হয়েছে। তবে আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ০.৫ শতাংশ।
জেদ্দায় ভোক্তা ব্যয় ৪.৩ শতাংশ বেড়ে ১.৮৫ বিলিয়ন রিয়ালে পৌঁছেছে। একই সময়ে মক্কায় ব্যয় বেড়েছে ৮.৪ শতাংশ এবং মদিনায় ১০ শতাংশ। মদিনায় মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৩৬.০৩ মিলিয়ন রিয়াল।
তবে শুধু এক সপ্তাহের তথ্য দেখে ভোক্তা ব্যয়ের কেন্দ্র রিয়াদ থেকে অন্য শহরে সরে যাচ্ছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ তালাত হাফিজ। তার মতে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রীড়া, বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রিক কার্যক্রম বাড়ার কারণে ব্যয়ের প্রবাহ এখন আরো বিস্তৃত হচ্ছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, সৌদি আরবে অভ্যন্তরীণ পর্যটন, বিনোদন ও অনুষ্ঠানভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত প্রসার লাভ করছে। একই সঙ্গে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে আরো বৈচিত্র্যময় করার সরকারি প্রচেষ্টাও এতে প্রতিফলিত হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)