Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ইউরোপে জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজছে সরকার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৭

ইউরোপে জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজছে সরকার

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভরসা। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শুধু সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই, দক্ষ কর্মী তৈরি করাই মূল লক্ষ্য। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে অতীতে যেখানে জনশক্তি রপ্তানি হয়নি, সেই সেক্টরগুলোতে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও গত সাত মাসে প্রায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইতালি, জর্ডান, ব্রুনেই, রাশিয়া ও জাপানেও কর্মী পাঠানো হয়েছে।

সরকারি সংস্থা বোয়েসেল (BOESL) গত অর্থবছরে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী বিদেশে পাঠিয়েছে। জর্ডানে গেছে প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ জন, ব্রুনাইতে ১ হাজার ৮০০ জন, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১ হাজার ৪০০ জন, মালয়েশিয়ায় ১ হাজার জন, রাশিয়ায় ৩৪০ জন এবং জাপানে ১১ জন। এছাড়া হংকং, কুয়েত ও ফিজিতেও কর্মী পাঠানো হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু সংখ্যা বাড়াতে চাই না। দক্ষ কর্মী পাঠাতে চাই। এ জন্য ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে বিদেশে গিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় না থাকে।”

ইউরোপের বাজারে প্রবেশকে সরকার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইটি ও প্রকৌশল খাতে দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শুধু রেমিট্যান্স বাড়বে না, দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৭.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সবচেয়ে বেশি এসেছে সৌদি আরব থেকে, এরপর যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

আশার কথা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশ জনশক্তি রপ্তানিতে স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে। নতুন বাজার হিসেবে ইউরোপকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। দক্ষ কর্মী তৈরি করে পাঠানো হলে শুধু সংখ্যা নয়, গুণগত মানও বাড়বে। এতে দেশের অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে এবং প্রবাসীদের জীবনও হবে নিরাপদ।

Logo