সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চায় বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২৫
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দলমত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের ক্ষমতাহীন রেখে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন ও জবাবদিহিতার মধ্য দিয়েই উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সামনে এখন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে।
তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের জন্য সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, স্টার্টআপ উদ্যোগে সহায়তার জন্য চলতি অর্থবছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের গণতন্ত্রের পাশাপাশি অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারীদের নগদ অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে এবং স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড চালু করা হয়েছে। নারীর নামে ইস্যু করা ফ্যামিলি কার্ডকে তিনি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে এসব কার্ডকে সমন্বিত করে একটি ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে জিডিপির বরাদ্দ ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাগ, ইউনিফর্ম ও বিনামূল্যে দুপুরের খাবারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শিক্ষা সিলেবাসে স্পোর্টস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রযুক্তির বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বিভাজন যেন ভবিষ্যতে এআই বিভাজনে পরিণত না হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেন।
এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশ একা এগিয়ে যেতে পারে না। সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে।
প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও মানবিক বিশ্বের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থন জানান তিনি।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। নিরাপদ প্রত্যাবাসন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তিনি কপ-৩১-এ জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অর্থায়নে জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানান। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো, সৌরশক্তি বাড়ানো এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন ও শান্তিরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান ও নারীদের অংশগ্রহণকে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণরা যেন স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পায়, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারে এবং প্রতিটি শিশু যেন তার সম্ভাবনা বিকাশ করতে পারে—এমন একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়াই সরকারের লক্ষ্য। তিনি ঘোষণা করেন, “সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ।”
logo-1-1740906910.png)