Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

ডিজিটাল ব্যাংক: গ্রাহকদের জন্য নতুন যুগের সেবা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:২৪

ডিজিটাল ব্যাংক: গ্রাহকদের জন্য নতুন যুগের সেবা

বাংলাদেশে নতুন করে চারটি ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকিং খাতে আসছে এক নতুন অধ্যায়। অনেকেই জানতে চাইছেন, ডিজিটাল ব্যাংক আসলে কী করবে এবং গ্রাহকদের কী সেবা দেবে।

ডিজিটাল ব্যাংক হবে সম্পূর্ণ শাখাবিহীন। কোনো শাখা, উপশাখা, এটিএম বা নগদ জমা মেশিন থাকবে না। সব সেবা মিলবে ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে। গ্রাহকরা ২৪ ঘণ্টা যে কোনো জায়গা থেকে সেবা নিতে পারবেন। ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোডের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেনদেন করা যাবে। অন্য ব্যাংকের এটিএম বা এজেন্ট সেবা ব্যবহার করে নগদ লেনদেনের সুযোগ থাকবে।

প্রতিটি ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনে ন্যূনতম ৩০০ কোটি টাকা মূলধন লাগবে। লাইসেন্স পাওয়ার পাঁচ বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আইপিও ছাড়তে হবে। উদ্যোক্তাদের অর্ধেককে প্রযুক্তি ও সাইবার আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ হতে হবে, আরেক অর্ধেককে ব্যাংকিং ও ই-কমার্স বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।

ডিজিটাল ব্যাংক হবে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক। তবে বড় বা মাঝারি শিল্পে ঋণ দিতে পারবে না। কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হবে। এতে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক অর্থায়নের আওতায় আসবেন। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উচ্চ পরিচালন ব্যয় ও ভৌত অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে প্রচলিত ব্যাংক অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারে না। ডিজিটাল ব্যাংক প্রযুক্তিনির্ভর সেবার মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠবে।

ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হবে। গ্রাহকের আর্থিক ইতিহাস ও সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে ঋণ দেওয়া হবে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ঝুঁকি কমবে।

ডিজিটাল ব্যাংক প্রচলিত ব্যাংকের বিকল্প নয়, বরং পরিপূরক। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে এবং স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে।

Logo