Logo
×

Follow Us

ইউরোপ

অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা ইইউর

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৫৯

অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা ইইউর

ইউরোপীয় কমিশন অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় নতুন জরুরি কাঠামো তৈরি করছে। নাম দেওয়া হয়েছে ইউরোপীয় ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফ্রেমওয়ার্ক। এর লক্ষ্য হলো সীমান্তে হঠাৎ বিপুল সংখ্যক অভিবাসী প্রবেশ করলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া।

কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বার্ষিক ভাষণে এ পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “ইউরোপকে সব সময় সীমান্ত রক্ষার সক্ষমতা রাখতে হবে। বিশেষ করে যখন অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।”

নতুন কাঠামো কেবল নির্দিষ্ট মানদণ্ডে সক্রিয় হবে। তখন সীমিত সময়ের জন্য কিছু নিয়মে নমনীয়তা দেওয়া হবে। তবে এখনো আইনগত খসড়া প্রকাশ হয়নি। ফলে কোন পরিস্থিতিতে এটি চালু হবে এবং কোন প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা যাবে তা স্পষ্ট নয়।

এর আগে চলতি বছরের জুনে প্যাক্ট অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম কার্যকর হয়েছে। এতে অভিন্ন নিয়ম চালু হয়েছে স্ক্রিনিং, আশ্রয় আবেদন, প্রত্যাবাসন ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে।

বর্তমান আইনেই সংকট ও ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজেশন’ বা অভিবাসনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে। কোনো দেশ বা গোষ্ঠী যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অভিবাসীদের সীমান্তে ঠেলে দেয়, তখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো ইতোমধ্যে কিছু নিয়মে ছাড় চাইতে পারে। যেমন আশ্রয় আবেদন নিবন্ধন চার সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্ব করা বা সীমান্তে আশ্রয় প্রক্রিয়া ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানো।

তবে কমিশন মনে করছে, বিদ্যমান নিয়ম অনেক সময় ধীরগতির বা যথেষ্ট নমনীয় নয়। তাই নতুন কাঠামো দ্রুত কার্যকর করার জন্য তৈরি হচ্ছে। এটি বিদ্যমান সংকট আইনকে সংশোধন করবে নাকি আলাদা কাঠামো হিসেবে কাজ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ভন ডার লেয়েন সাম্প্রতিক গ্রীষ্মের ঘটনাগুলোর সঙ্গে এ উদ্যোগকে যুক্ত করেছেন। পূর্ব ইউরোপের সীমান্ত, ভূমধ্যসাগর এবং স্পেনের সেউটা এলাকায় চাপ বেড়েছিল। জুলাইয়ে সেউটায় একসঙ্গে ৭০ হাজারের বেশি অনিয়মিত অভিবাসী প্রবেশ করে। এ নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দেয়।

কমিশন বলছে, পাচারকারী ও মানব পাচারকারীদের পাশাপাশি শত্রুভাবাপন্ন পক্ষও অভিবাসীদের ব্যবহার করছে। তাই সীমান্তে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জরুরি।

নতুন কাঠামোর পাশাপাশি ফ্রন্টেক্সকে আরো শক্তিশালী করা হবে। বিশেষ করে প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে এর ভূমিকা বাড়ানো হবে। তৃতীয় দেশের সঙ্গে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। অনলাইন নজরদারি ও তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অভিবাসন প্রবাহ আগে থেকেই শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হলো, কোন পরিস্থিতিকে ইউরোপীয় স্তরের জরুরি অবস্থা ধরা হবে এবং তখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো কতটা নমনীয়তা পাবে। একই সঙ্গে নতুন কাঠামো বিদ্যমান সংকট আইনকে কীভাবে সম্পূরক করবে তা নির্ধারণ করতে হবে।

Logo