অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও ভিসা হপারদের ওপর কঠোর নিয়ম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:৫৮
অস্ট্রেলিয়া সরকার অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মন্ত্রী টনি বার্ক ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ভাষণে নতুন নীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন। কয়েক সপ্তাহের বিতর্ক ও বিলম্বের পর এ সংস্কার কার্যকর হচ্ছে।
বার্ক বলেন, সংস্কার তিন ভাগে বিভক্ত— কে আসবে, কে থাকবে এবং কে চলে যাবে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার, ভিসা হপার ও ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা আর পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যেতে পারবেন না। তবে পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং কিছু প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আসিয়ান দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রম থাকবে। এ নিয়ম ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে, বর্তমানে থাকা পরিবারগুলোকে আলাদা করা হবে না।
ভিসা হপিং বন্ধে নতুন যোগ্যতা স্কেল চালু হবে। কেবল উচ্চতর কোর্সে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীরা ভিসা বাড়াতে পারবেন। যেমন ব্যাচেলর থেকে মাস্টার্সে গেলে ভিসা বাড়ানো যাবে।
ব্যাকপ্যাকারদের জন্য নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় বছরে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার এবং তৃতীয় বছরে মাত্র ৫ হাজার জন থাকতে পারবেন। আগে এ সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৭ হাজার ও ৩১ হাজার। তবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকরা এ সীমার বাইরে থাকবেন, কারণ তাদের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে।
ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণদের জন্য কঠোর শাস্তি আসছে। বর্তমানে প্রায় ৭৭ হাজার মানুষ ভিসা শেষ হওয়ার পরও দেশে আছেন। তাদের জন্য আটক ও দ্রুত ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বার্ক বলেন, এটি ২০১৫ সালের আগের মডেলে ফিরে যাওয়া। তখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আটক হয়ে নিজ খরচে দেশে ফিরতে হতো।
অভিবাসন এজেন্টদের বিরুদ্ধে শাস্তির ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। যারা ভুয়া আবেদন করাতে সাহায্য করে, তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হবে।
দক্ষ কর্মীদের জন্য পয়েন্ট টেস্টে পরিবর্তন আসছে। নির্মাণ খাতের যোগ্যতাকে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রির সমান ধরা হবে। স্বাস্থ্য, নির্মাণ, শিক্ষা ও আইন প্রয়োগকারী খাতে দক্ষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সরকার বলছে, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন কমানো। ২০২৭ সালের জুলাই পর্যন্ত সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ থেকে কমিয়ে ২ লাখ ৪৫ হাজার করা হবে। এরপর প্রতি বছর ২ লাখ ২৫, হাজার রাখা হবে।
বার্ক বলেন, অভিবাসীরা আবাসন সংকটের জন্য দায়ী নয়। তবে অভিবাসন ধীর করতে হবে, যাতে আবাসন সরবরাহ বাড়তে পারে।
নীতির প্রতিক্রিয়ায় সমালোচনা উঠেছে। আশ্রয়প্রার্থী সহায়তা কেন্দ্রের প্রধান বলেছেন, এটি বহুসাংস্কৃতিক অস্ট্রেলিয়ার জন্য অন্ধকার দিন। জাতীয় কৃষক ফেডারেশন বলেছে, ব্যাকপ্যাকার ভিসায় সীমা আনা খাদ্য নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমলে দক্ষতা, চাকরি ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ক্ষতি হবে।
লেবার সরকারের নতুন অভিবাসন নীতি শিক্ষার্থী, ব্যাকপ্যাকার ও ভিসা হপারদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আনছে। লক্ষ্য হলো অভিবাসন সংখ্যা কমানো এবং আবাসন সংকট মোকাবিলা করা। তবে এর প্রভাব নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)