রেমিট্যান্সের টাকা খরচ হচ্ছে ভোগে, বিলাসিতায়
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৭
বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ টানা বাড়ছে। জুলাই ও আগস্টে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৫.৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।
রেমিট্যান্সের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে আবারো ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। আমদানি ব্যয় মেটানো ও ঋণ পরিশোধে এটি বড় সহায়তা করছে। অর্থনীতির জন্য রেমিট্যান্স এখন ‘অক্সিজেন সিলিন্ডার’ হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপে দেখা গেছে, প্রবাসী আয়ের সিংহভাগই ভোগবিলাসে ব্যয় হয়। মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৭৪ শতাংশ যায় অনুৎপাদনশীল খাতে। কাপড়চোপড়, প্রসাধনী, ফ্রিজ, টেলিভিশন, আসবাবপত্রসহ নানা ভোগ্যপণ্য কেনায় অর্থ ব্যয় হয়।
মাত্র ২৫ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগে যায়। এর মধ্যে প্রায় ১৭ শতাংশ জমি, ফ্ল্যাট কেনা ও বাড়িঘর নির্মাণে ব্যবহার হয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের হার খুবই কম।
ঈদ ও রোজার সময় রেমিট্যান্স দ্বিগুণ হয়। তবে এর ৯০ শতাংশই ভোগবিলাসে খরচ হয়। বছরের অন্য সময়ে কিছু পরিবার সঞ্চয় করে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৭ শতাংশ পরিবার রেমিট্যান্স থেকে কিছু অর্থ সঞ্চয় করে। বিভাগভেদে সঞ্চয়ের হার ভিন্ন। সিলেটে সবচেয়ে কম, বরিশালে সবচেয়ে বেশি।
প্রবাসীরা মনে করেন, রেমিট্যান্স খাতকে সংস্কার করা জরুরি। তাদের দাবি হলো ব্যাংক খাতের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা, বিমানবন্দরে ভিআইপি মর্যাদা দেওয়া, বিমান ভাড়া ও পাসপোর্ট ব্যয় কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং বিদেশে মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ বিনামূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনা।
প্রবাসীদের ঘাম ঝরানো কষ্টার্জিত অর্থ দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে। কিন্তু এর বড় অংশ ভোগবিলাসে ব্যয় হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। রেমিট্যান্সকে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার জন্য কার্যকর নীতি ও কাঠামোগত সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
logo-1-1740906910.png)