২০২৭ সালের হজে অংশ নিতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি হাজিদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় মাধ্যমেই নিবন্ধনের সাধারণ নিয়মাবলি ঘোষণা করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৫ মে ২০২৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে পবিত্র হজ।
হজের প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শেষ হবে। প্রাক-নিবন্ধন ছাড়া কোনো হজযাত্রী সরাসরি নিবন্ধন করতে পারবেন না।
প্রাক-নিবন্ধনের সময় জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, নিজস্ব মোবাইল নম্বর, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য জমা দিতে হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি চাইলে একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন।
ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্বাচন করে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন অথবা পুরো প্যাকেজের অর্থ জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করা যাবে। প্রাথমিক নিবন্ধিত হজযাত্রীকে ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে হবে। অন্যথায় তার প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল হবে।
হজে গমনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত থাকতে হবে। ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন। তবে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী হজযাত্রীকে সঙ্গে একজন অনূর্ধ্ব ৫০ বছর বয়সী সুস্থ সহযোগী নিতে হবে।
ভিসার আবেদনের আগে বায়োমেট্রিক, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, টিকা এবং ফিটনেস সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। সরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয় বা হজক্যাম্পে এবং বেসরকারি মাধ্যমের হজযাত্রীদের এজেন্সির মাধ্যমে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার বা কিডনির অকার্যকারিতা, স্নায়ুবিক বা মানসিক ব্যাধি, সক্রিয় ক্যান্সার রোগী, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা নারীরা হজে যেতে পারবেন না। আদালত বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষিদ্ধ ব্যক্তিরাও হজে অংশ নিতে পারবেন না।
একটি নিবন্ধন ভাউচারে সর্বোচ্চ ১৪ জন হজযাত্রী যুক্ত করা যাবে। গ্রুপভুক্ত সবাইকে একসঙ্গে হজে যেতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিরাও একই নিয়মে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন করে হজে অংশ নিতে পারবেন।
হজযাত্রীদের সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০ দিন। শর্ট প্যাকেজে অবস্থানকাল হবে ২০ থেকে ২৫ দিন। তবে চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করবে অনুমোদিত ফ্লাইট শিডিউল।
সরকারি মাধ্যমে নিবন্ধন বাতিল করতে হলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করতে হবে। অনুমোদন হলে ব্যয়িত অর্থ কর্তনপূর্বক ফেরত দেওয়া হবে। ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ এর পর বাতিলের আবেদন করলে ব্যয়িত অর্থ কর্তন করা হবে। প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নিবন্ধন বাতিল হলে জমাকৃত অর্থ প্রতিস্থাপনকারী হজযাত্রী প্রদান করবেন।
logo-1-1740906910.png)