Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

রেমিট্যান্স খরচে এলডিসি দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮

রেমিট্যান্স খরচে এলডিসি দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে বিশ্বের মধ্যে বেশি খরচ হয়। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন (ইউএনসিট্যাড) প্রকাশিত সর্বশেষ বৈশ্বিক বাণিজ্য আপডেটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠাতে গড়ে ৭ থেকে ৮ শতাংশ খরচ হয়। এটি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে অন্যতম উচ্চ ব্যয়। সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের ২০২৩ সালের রেমিট্যান্স ট্রান্সফার বেঞ্চমার্কে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে অর্থ পাঠিয়ে দেশের বৈদেশিক অর্থপ্রবাহের বড় অংশ পূরণ করছেন। এ কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স গ্রহণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে।

ইউএনসিট্যাডের রিপোর্টে বলা হয়েছে, এলডিসি দেশগুলোর অর্ধেকই রেমিট্যান্স খরচে শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে বেনিন ও অ্যাঙ্গোলায় সবচেয়ে বেশি খরচ হয়, আর লাওস ও হাইতিতে সবচেয়ে কম। তবে আফ্রিকায় মোবাইল মানি ব্যবহারের কারণে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। সাব-সাহারান আফ্রিকায় মোবাইল মানি ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০২১ সালে ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত এক দশকে বৈশ্বিক সেবা রপ্তানি বছরে গড়ে ৬.৭ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা পণ্য রপ্তানির চেয়ে বেশি। ২০২৫ সালে সেবা রপ্তানি বেড়েছে ৮.৩ শতাংশ। এর মধ্যে ডিজিটালি সরবরাহযোগ্য সেবা (ডিডিএস) সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে, যা এখন বৈশ্বিক সেবা রপ্তানির ৫৬ শতাংশ।

কিন্তু এলডিসি দেশগুলো এ বৃদ্ধির সুবিধা নিতে পারেনি। তাদের সেবা রপ্তানি বছরে মাত্র ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০১০ সালে বৈশ্বিক সেবা রপ্তানিতে এলডিসি দেশগুলোর অংশ ছিল ১ শতাংশের কম, যা ২০২৫ সালে আরও কমে ০.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। উন্নত অর্থনীতিতে ডিডিএস রপ্তানি ৬১ শতাংশ হলেও এলডিসি দেশগুলোতে তা মাত্র ১৬ শতাংশ।

ইউএনসিট্যাড রিপোর্টে ‘সার্ভিসিফিকেশন’-এর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, লজিস্টিকস, ফাইন্যান্স, ডিজাইন ও ডেটা ম্যানেজমেন্টের মতো সেবা এখন সব খাতেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ২০২২ সালে বৈশ্বিক মধ্যবর্তী ইনপুটে সেবার অংশ ছিল ৭১ শতাংশ। উন্নত অর্থনীতিতে এটি ৭৮ শতাংশ হলেও এলডিসি দেশগুলোতে মাত্র ৫৮ শতাংশ। শিল্পপণ্যের রপ্তানিতে সেবার অংশ বিশ্বব্যাপী ৩৩ শতাংশ হলেও এলডিসি দেশগুলোতে তা মাত্র ১৩ শতাংশ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুর্বল সংযোগ, ব্যয়বহুল সীমান্ত পারাপার পেমেন্ট এবং দক্ষতার ঘাটতি উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ সীমিত করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বৈষম্য বাড়তে পারে, কারণ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অর্থায়ন কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত।

ডিজিটাল বাণিজ্যে বহুপাক্ষিক নিয়ম তৈরির অগ্রগতি ধীরগতির। আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিন্ন ভিন্ন ধারা জটিলতা বাড়াচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে শক্তিশালী ডেটা ব্যবস্থাপনা, উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো এবং উদীয়মান নিয়ম তৈরিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।

Logo