শাহজালাল বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট, ভোগান্তিতে যাত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ বহনে ব্যবহৃত ট্রলি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ফ্লাইট শেষে লাগেজ সংগ্রহের পর ট্রলি না পেয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
দুবাই থেকে দেশে ফেরা আরমান হোসেন জানান, লাগেজ সংগ্রহের পর প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে ট্রলি পাওয়ার জন্য। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান শেফালী নামে আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, “শাহজালাল বিমানবন্দরের মতো এমন হয়রানি অন্য কোথাও নেই। লাগেজ পেতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।”
যাত্রীদের অভিযোগ, বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট ও অব্যবস্থাপনা দিন দিন বাড়ছে। টার্মিনাল-১ ও ২ এর ক্যানোপি গ্রিল দিয়ে আটকানো থাকায় ট্রলি নিয়ে বাইরে যেতে পারছেন না যাত্রীরা। বাধ্য হয়ে মাথায় লাগেজ নিয়ে বের হতে হচ্ছে। অথচ বিশ্বের অন্যান্য বিমানবন্দরে যাত্রীরা ট্রলি নিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারেন।
বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন প্রায় ৩৪টি এয়ারলাইন্সের ১৫৯ থেকে ২০০ ফ্লাইট ওঠানামা করে। এতে ৩০-৩৫ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। একসঙ্গে কয়েকটি ফ্লাইট অবতরণ করলে ট্রলি সংকট দেখা দেয়। লাগেজ সরবরাহেও সমস্যা হয়, কারণ বিমানবন্দরে রয়েছে মাত্র আটটি কনভেয়ার বেল্ট।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বলছে, বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি আছে। তবে একসঙ্গে চার-পাঁচটি ফ্লাইট অবতরণ করলে চাপ তৈরি হয়। এ কারণে ক্যানোপির বাইরে ট্রলি নেওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ জানান, বিমানবন্দরের ধারণক্ষমতা বছরে ৮০ লাখ যাত্রী হলেও গেল বছর এক কোটি ২৭ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর আরো বাড়বে। যাত্রীদের তুলনায় অবকাঠামো বাড়েনি, ফলে চাপ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে তিন হাজার ৯২০টি ট্রলি আছে, এর মধ্যে ২০০ থেকে ৩০০ রক্ষণাবেক্ষণে থাকে। ফলে ব্যবহারের জন্য থাকে প্রায় তিন হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ ট্রলি।
বেবিচক জানিয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আরো ৫০০ ট্রলি কেনা হচ্ছে। গাজীপুর মেশিন টুলস কারখানা থেকে এসব ট্রলি সরবরাহ করা হবে। এ মাসেই ২০০ ট্রলি আসবে, পরে আরো ৩০০ ট্রলি সরবরাহ করা হবে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)