বছরে বৈধভাবে ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫
বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে প্রতি বছর ১০ হাজার শ্রমিক ইতালিতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরিবারসহ এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই এসব অঞ্চল থেকে গেছেন। অনেকেই সমুদ্রপথে লিবিয়া হয়ে অবৈধভাবে ইতালি পৌঁছান, যা উদ্বেগজনক।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে যারা ইতালিতে আছেন, তাদের বৈধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে দালালের মাধ্যমে যারা অবৈধভাবে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
তিনি আরো জানান, মালয়েশিয়ার হাইকমিশনারকে ২ লাখ শ্রমিক নেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে খাদ্য অপচয় রোধ ও ফুড সিকিউরিটি নিয়ে কাজ করছে ইতালির মিলান শহর। সেই মডেল অনুসরণ করে বাংলাদেশেও কাজ করতে সম্মত হয়েছে ইতালি। খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে এ ক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ভাষা প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশগত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একমত হয়েছে। বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতে ইতালিতে প্রশিক্ষণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নির্দিষ্ট তালিকা পাঠালে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও স্থপতিদের সফরে পাঠানো হবে।
ইতালি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালীয় ভাষা শেখাতে প্রতিনিধি পাঠাবে। দেশের যেকোনো একটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তনিও আলেসান্দ্রো বলেন, “আমরা বাণিজ্য, অভিবাসন এবং দুই দেশের শহরগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছি। যদিও এটি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল, তবুও সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করতে কীভাবে একসাথে কাজ করা যায় সে বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।”
logo-1-1740906910.png)