প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত, সমাধানে কাজ চলছে: নুরুল হক নুর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে গবেষণা করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করাকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
৬ সেপ্টেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশ দেন। নোটিশে ই-পাসপোর্ট জটিলতা, অপহরণ ও নির্যাতন, দালাল চক্রের প্রতারণা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, গামকা মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম, বিএমইটির দুর্নীতি, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের সরকারি সহায়তাসহ ১০টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
জবাবে নুরুল হক নুর বলেন, “প্রকৃত অর্থে প্রবাসীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। এর জন্য ওনাকে স্টাডি করতে হয়েছে, এক প্রকার রিসার্চ করতে হয়েছে।” তিনি স্বীকার করেন, প্রবাসীদের সমস্যাগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দেশের চাহিদা অনুযায়ী জনশক্তি প্রস্তুতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে মিটিং করে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে চাহিদা নেওয়া হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী ডিমান্ড ম্যাপিং করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করে। কিন্তু তারা নানা হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সামান্য অসঙ্গতির কারণে ই-পাসপোর্ট আটকে যাচ্ছে, ফলে ইকামা নবায়ন ও ব্যাংকিং সেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে দূতাবাসে বিশেষ ই-পাসপোর্ট সেল গঠন এবং এমআরপি পাসপোর্টের ধারাবাহিকতা রেখে নবায়নের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবে প্রবাসীদের অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায় বন্ধে দূতাবাস ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতারণার শিকার প্রবাসীদের দ্রুত বিচার ও ক্ষতিপূরণ, সরকারি আইনি সহায়তা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। গামকা মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম ও ফিট-আনফিট বাণিজ্য বন্ধ, বিএমইটির দুর্নীতি প্রতিরোধ, অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কমানোর দাবি জানান তিনি।
এছাড়া দূতাবাস থেকে সরাসরি আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা, অসুস্থ প্রবাসীদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন এবং মৃত প্রবাসীদের মরদেহ দ্রুত ও বিনামূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থার দাবি তোলেন।
logo-1-1740906910.png)