Logo
×

Follow Us

বাংলাদেশ

পাসপোর্টের সাথে এনআইডির তথ্য মিলছে না: বিপদে প্রবাসীরা

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬

পাসপোর্টের সাথে এনআইডির তথ্য মিলছে না: বিপদে প্রবাসীরা

গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসী বর্তমানে এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্য গরমিলের কারণে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিদেশে যাওয়ার সময় দালাল চক্রের প্রতারণা বা অসচেতনতার কারণে ভুল তথ্য দিয়ে তৈরি করা পাসপোর্টই এই সংকটের মূল কারণ।

হবিগঞ্জের মশিউর রহমান মুমিনের ঘটনা প্রবাসীদের এই সমস্যার একটি উদাহরণ। তার এনআইডিতে জন্মসাল ১৯৯৫ হলেও দালালের মাধ্যমে তৈরি করা পাসপোর্টে জন্মসাল দেওয়া হয় ১৯৯৯। ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি গ্রিসে গিয়ে রেসিডেন্স পারমিটসহ সব বৈধ নথি তৈরি করেন। দেশে ফিরে ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে গিয়ে এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের অমিলের কারণে সমস্যায় পড়েন। মাসের পর মাস এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেও সমাধান পাননি।

একইভাবে রফিকুল ইসলামও পাসপোর্ট নবায়নের সময় এনআইডির তথ্যের সঙ্গে অমিল থাকায় বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, “বিদেশে বৈধভাবে ব্যবহৃত নথি যাচাই করে অন্তত একবার এনআইডি সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত।”

গ্রিসে কমিউনিটি নেতা জাহিদ ইসলাম জানান, বিদেশে যাওয়ার সময় অনেক প্রবাসী দালালের মাধ্যমে ভুল নাম, বয়স বা জন্মতারিখ দিয়ে পাসপোর্ট তৈরি করেন। পরবর্তীতে ওই তথ্যের ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিট, ব্যাংক হিসাব ও চাকরির নথি তৈরি হয়। দেশে ফিরে এনআইডির তথ্যের সঙ্গে গরমিল দেখা দিলে তারা বড় সমস্যায় পড়েন। তিনি বলেন, “প্রবাসীদের বৈধ নথি যাচাই করে দ্রুত এনআইডি সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

বর্তমানে নির্বাচন কমিশন এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করে। বড় ধরনের অমিল থাকলে তা ‘গ’ বা ‘ঘ’ ক্যাটাগরির জটিল সংশোধন হিসেবে চিহ্নিত হয়। বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন, এসএসসি সনদ বা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অ্যাফিডেভিট চাওয়া হয়। তবে বিদেশে তৈরি রেসিডেন্স পারমিটকে এনআইডি সংশোধনের একক ভিত্তি হিসেবে গ্রহণের স্পষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে হাজার হাজার আবেদন দীর্ঘদিন ধরে অনিষ্পন্ন অবস্থায় পড়ে আছে।

প্রবাসীরা মনে করেন, দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অবদান রাখলেও এনআইডি-পাসপোর্টের তথ্য গরমিল তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা চান বিদেশে বৈধভাবে ব্যবহৃত নথি যাচাই করে অন্তত একবার এনআইডি সংশোধনের বিশেষ সুযোগ দেওয়া, নির্বাচন কমিশনে পৃথক ডেস্ক বা ফাস্ট-ট্র্যাক ব্যবস্থা চালু করে দ্রুত নিষ্পত্তি করা ও বিদেশি নথির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এনআইডি সংশোধন প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করা।

Logo