মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দিতে আগ্রহী বাংলাদেশ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান সম্প্রতি মক্কায় একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, জোটভুক্ত কোনো একটি দেশ সামরিক হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মুসলিম বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশও।
২০২৩ সালের গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকেই এ ধরনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আলোচনা শুরু হয়। ২০২৫ সালে সৌদি আরব ও পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি করে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তিতে বলা হয়েছে, জোটভুক্ত কোনো দেশ আক্রান্ত হলে অন্যরা সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে। তবে নির্দিষ্ট সেনা সংখ্যা, যুদ্ধবিমান বা অস্ত্র মোতায়েনের বাধ্যবাধকতা নেই। বিশ্লেষকরা এটিকে ন্যাটোর মতো বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং একটি অভিপ্রায়ের ঘোষণা হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, “মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আমরা আগ্রহ প্রকাশ করেছি। মক্কার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। ইসলামিক নেশনসদের মধ্যে যদি একটি সিকিউরিটি প্যাক্ট হয়, তাহলে সেখানে যোগ দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।”
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খান মনে করেন, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা এবং তুরস্কের সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের দক্ষতা বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হতে পারে। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এই জোটের দেশগুলো ভূমিকা রাখতে পারে বলে বাংলাদেশ আশা করছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশ এই জোটে যুক্ত হলে দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে পারে। আলতাফ পারভেজ বলেন, “বাংলাদেশ যুক্ত হলে ভারত উদ্বিগ্ন হবে। ভারত তখন ইসরায়েলের সহযোগিতা চাইতে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক উত্তেজনা ও প্রক্সি যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়বে।”
অন্যদিকে, মিসরও এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে। তবে তারা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, কারণ এতে ইরান, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
logo-1-1740906910.png)