শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে মাদক চোরাচালান চক্রের তৎপরতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৪
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আবারো বিপুল পরিমাণ মাদক ‘কুশে’র চালান জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ২৭ আগস্ট অভিযানে ৫ কেজি ১২০ গ্রাম কুশসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে গত ৩৫ দিনে বিমানবন্দর থেকে মোট পাঁচটি চালান জব্দ হলো, যার পরিমাণ প্রায় ৩০ কেজি।
ডিএনসির সর্বশেষ অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা আবদুল রহমান ও মোহাম্মদ ইকবাল আনসারি। তাদের কাছ থেকে কুশ ছাড়াও দুটি ভারতীয় পাসপোর্ট, ৫০০ মার্কিন ডলার, ১০ হাজার ভারতীয় রুপি, তিনটি স্মার্টফোন এবং দু’জনের বোর্ডিং কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসির ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী পরিচালক ড. আবু সাঈদ মিয়া জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেলে অবস্থান নেয় ডিএনসির একটি দল। ব্যাংকক থেকে আসা দুই ভারতীয় নাগরিককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাদের ট্রাভেল ট্রলি তল্লাশি করে কাপড়ের নিচে লুকানো কুশ উদ্ধার করা হয়।
২৪ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে ভারতীয় শাড়ির আড়ালে লুকানো ৫ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ ও ৩ লিটার বিদেশি মদসহ দুই ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা সানাওয়ার আলী ও ইমতিয়াজ আহমেদ। তাদের কাছ থেকে শাড়ি, পাসপোর্ট, স্মার্টফোন ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা পাওয়া যায়।
২২ আগস্ট গ্রেপ্তার হন ভারতের হোসেন আবদুল কাদের শেখ। তার কাছ থেকে পাওয়া যায় ৩ কেজি কুশ। তিনি কলকাতা থেকে ব্যাংকক হয়ে ঢাকায় আসেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, প্রতি কেজি কুশের দাম প্রায় ২০ লাখ টাকা।
১৮ আগস্ট বিমানবন্দরে ৪ কেজি ১০০ গ্রাম কুশ জব্দ করা হয়। ওই চালান আনেন ভারতীয় নাগরিক আকাশ দুবে ও আকাশ পান্ডে। তবে তারা পালিয়ে যায় এবং এখনো বাংলাদেশে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।
২৪ জুলাই গ্রেপ্তার হন জুলফিকার মোল্লা। তার কাছ থেকে পাওয়া যায় ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম কুশ।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কুশের প্রতিটি চালানই ভারতীয় নাগরিকরা বহন করছিলেন। তারা বিভিন্ন কৌশলে কাপড়, শাড়ি বা ট্রলির ভেতরে মাদক লুকিয়ে আনছিলেন। প্রতি কেজি কুশের দাম কয়েক লাখ টাকা হওয়ায় আন্তর্জাতিক চক্রগুলো বাংলাদেশকে পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে।
logo-1-1740906910.png)