বিশ্বজুড়ে সব ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৪
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আগ্রাসী অভিযান চালাচ্ছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ভিসাসেবা-সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি পরিবর্তন করা হবে। ভিসাপ্রার্থীদের ই-মেইলে জানানো হয়েছে যে তাদের সাক্ষাৎকারের সময় পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসীদের বহিষ্কার ও ভিসা বাতিলের কঠোর অভিযান চালাচ্ছে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ কিংবা ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো কারণেও অনেকের ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হচ্ছে। আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। ট্রাম্প বলেছেন, তার এই অভিযানের লক্ষ্য দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা।
তবে প্রশাসনের এই নীতি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের এক বিচারক বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করেছেন। বিচারক বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে সহায়তা করা, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। পাশাপাশি ভিসাপ্রার্থীদের মূল্যায়ন যেন ধারাবাহিকভাবে ও একই মানদণ্ডে করা হয়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন করছে। সংগঠনগুলো বলছে, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য। তারা আশঙ্কা করছে, জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ ও বিশেষ নজরদারির শিকার হতে হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)