ফিলিপাইন এখন শুধু ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের কাছেও উচ্চশিক্ষার অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠছে। বিশেষ করে চিকিৎসাশিক্ষায় দেশটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ইংরেজি ভাষায় পড়াশোনা, আমেরিকান ধাঁচের পাঠ্যক্রম, সাশ্রয়ী খরচ এবং নিরাপদ পরিবেশ শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে।
দক্ষিণ ফিলিপাইনের দাভাও মেডিকেল স্কুল ফাউন্ডেশন (DMSF) এ বছরের মার্চে এক হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি প্রদান করেছে। এর মধ্যে ভারতীয়দের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীরাও ছিলেন। ফিলিপাইনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে হাজার হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
ফিলিপাইনে চিকিৎসাশিক্ষা ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা ইংরেজি ভাষায় পরিচালিত হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার অনেক শিক্ষার্থী আগে থেকেই ইংরেজি পড়াশোনায় অভ্যস্ত। ফলে নতুন ভাষা শেখার চাপ ছাড়াই তারা সহজে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে। চিকিৎসাশাস্ত্রে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে ইংরেজি মাধ্যম বড় সুবিধা হিসেবে দেখা দেয়।
ফিলিপাইনের চিকিৎসাশিক্ষা দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকান মডেল অনুসরণ করছে। এতে মৌলিক বিজ্ঞান ও ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ একসঙ্গে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা শুধু দেশে ফিরে চিকিৎসক হওয়ার সুযোগই পান না, বরং যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া বা মধ্যপ্রাচ্যে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণ নেওয়ার পথও উন্মুক্ত হয়। এ কারণে ফিলিপাইনকে অনেক শিক্ষার্থী তাদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।
দাভাও শহর এখন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানে হাসপাতাল, ল্যাবরেটরি, ক্লিনিক্যাল রোটেশন, আন্তর্জাতিক খাবার, আবাসন ও পরিবহন সুবিধা সহজলভ্য। শহরটি নিরাপত্তার দিক থেকেও ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালে দাভাওকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম নিরাপদ শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ফলে অভিভাবকরা সন্তানদের পাঠাতে তুলনামূলকভাবে নিশ্চিন্ত বোধ করেন।
দাভাওয়ে ভারতীয়, মধ্যপ্রাচ্যের এবং আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ফলে নতুন শিক্ষার্থীরা সহজেই সামাজিকভাবে মানিয়ে নিতে পারেন। স্থানীয় আবহাওয়া দক্ষিণ এশিয়ার মতোই উষ্ণ, আর আন্তর্জাতিক খাবারের দোকানগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেছে।
ফিলিপাইনে পড়াশোনার খরচ তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। টিউশন ফি ছাড়াও আবাসন, খাবার, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ অনেক দেশের তুলনায় কম। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোও সন্তানকে বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের উচিত পুরো কোর্সের খরচ, পরীক্ষা ফি ও অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ব্যয় আগে থেকেই হিসাব করে নেওয়া।
ফিলিপাইনে চিকিৎসাশিক্ষা শেষ করলেই সরাসরি অন্য দেশে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা যায় না। প্রতিটি দেশে আলাদা লাইসেন্স পরীক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিয়ম রয়েছে। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউরোপে কাজ করতে হলে সেই দেশের নিয়ম মেনে চলতে হবে। তবে ফিলিপাইনের ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দেশে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
ফিলিপাইন এখন আর অজানা কোনো বিকল্প নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা করিডর। ইংরেজি মাধ্যম, সাশ্রয়ী খরচ, নিরাপদ পরিবেশ এবং বড় বিদেশি শিক্ষার্থী কমিউনিটি দেশটিকে উচ্চশিক্ষার জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দাভাওয়ের মতো শহরগুলোতে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি অর্জনই করছেন না, বরং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন।
logo-1-1740906910.png)