বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পর্যটন যোগাযোগ আরো বাড়াতে ফ্লাইটের সংখ্যা ও ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানো এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভিসা প্রক্রিয়ায় প্রি-ভেরিফিকেশন চালু, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১৮ আগস্ট মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের (এমওটিএসি) উপমন্ত্রী ওয়াইবি তুয়ান চিউ চুন মানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এসব বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দুই দেশের পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পর্যটকদের ভ্রমণ আরো সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ ও প্রি-ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরো সহজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
মালয়েশিয়ার পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে যোগ্য কর্মী নেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ খাতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সফল উদ্যোগ বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার সম্পর্ক আরো গভীর করার ওপর গুরুত্ব দেয় উভয় পক্ষ।
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার পর্যটকদের জন্য বাংলাদেশে বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব। একইভাবে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মালয়েশিয়ায় পর্যটন সুবিধা আরো বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে, বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো উদ্যোগ বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার পর্যটন সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার পর্যটনবিষয়ক উপ-মহাসচিব চুয়া চুন হাওয়া, ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার এশিয়া ও আফ্রিকা বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রচার বিভাগের পরিচালক নুওয়াল ফাদিলাহ কু আজমি এবং এমওটিএসি ও ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি হাইকমিশনার মোছাম্মৎ শাহানারা মনিকা এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (কমার্শিয়াল) প্রণব কুমার ঘোষ।
logo-1-1740906910.png)