সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের চেষ্টা করার সময় আট রোহিঙ্গাসহ মোট ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ১৭ আগস্ট বিকেলে উপজেলার দিঘিরপাড় ইউনিয়নের সুরমা নদীর কুওরেরমাটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প-১ থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সিলেট নগরের কদমতলী থেকে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে কানাইঘাটে আনা হয়। পরিকল্পনা ছিল দনা সীমান্ত দিয়ে তাদের ভারতে পাচার করা। এজন্য নদীর তীরে একটি নৌকাও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
যাতায়াতে দেরি হওয়ায় নৌকার মাঝির সঙ্গে পাচারকারীদের ঘন ঘন ফোনালাপ স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি করে। পরে এলাকাবাসী কুওরেরমাটি মাদ্রাসার সামনে অটোরিকশা দুটি আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পাচারের তথ্য বেরিয়ে আসে। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় রোহিঙ্গাসহ পাচারকারী চক্রের সদস্যদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
পাচারকারী চক্রের দুই সদস্য হলেন কানাইঘাটের এরালীগুল গ্রামের আছাদ (২২) ও বড়খেরড় গ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২২)। এছাড়া অটোরিকশার চালক দুজন হলেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার রফিক (৬৫) ও নেত্রকোনার এলাছ উদ্দিন (৪৪)। আটক রোহিঙ্গারা সবাই কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, আটক রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। পাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
এর আগে গত ৭ জুলাই ভারতে কারাভোগ শেষে ১০ বাংলাদেশি নাগরিক সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে ফেরেন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের হস্তান্তর করে। তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন সময়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
তারও আগে বিশেষ ট্র্যাভেল পারমিটের মাধ্যমে ৫০ জন বাংলাদেশি কারাভোগ শেষে দেশে ফিরেছিলেন। এসব ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
logo-1-1740906910.png)