সিলেটের দালালের প্রতারণায় নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:২৫
সিলেটের মানুষের প্রবাসে গিয়ে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন বহু পুরোনো। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমানোর আকাঙ্ক্ষা এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে প্রবল। কিন্তু সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারকচক্র। ভুয়া ভিসা, জাল কাগজপত্র ও বিদেশে চাকরির প্রলোভনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একের পর এক ঘটনা সামনে আসছে।
সর্বশেষ সিলেটের গোলাপগঞ্জে যুক্তরাজ্যে হেলথ কেয়ার ভিসায় পাঠানোর নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কয়েছ আহমদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তিনি কয়েকজনের কাছ থেকে মোট ৬০ লাখ টাকা নিয়েছিলেন। মেডিকেলসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করার পরও ভিসা না হওয়ায় ভুক্তভোগীরা সন্দেহ করেন। পরে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, সেগুলো ভুয়া। টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
এর আগে যুক্তরাজ্যের স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার নামে কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় বদরুজ্জামান তানভীরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। মামলার বাদীপক্ষের দাবি, তিনি ও তার সহযোগীরা প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু ফেরত দেওয়া হলেও এখনো বড় অঙ্কের টাকা বাকি রয়েছে।
গত মে মাসে সিলেটের ‘অ্যামেক্স অ্যাসোসিয়েটস’-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৭০০ তরুণের কাছ থেকে অন্তত ৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটির মালিকরা প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ভুয়া ভিসা দেখান। পরে অফিস বন্ধ করে গা-ঢাকা দেন তারা। মামলা হলে পুলিশ তাদের আটক করে।
শুধু প্রতারণাই নয়, অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি নৌকায় ৩৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। নৌকাডুবিতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয় এবং সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, যাত্রায় খাবার ও পানির সংকট ছিল। তাদের চোখের সামনেই কয়েকজন মারা যান এবং মরদেহ সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন।
সিলেট নগরীর বাসিন্দা চৌধুরী মুশফিক মুনিমও প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরিচিত চারজনকে বিদেশে পাঠাতে ‘ট্রাভেল জোন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি ভিসা হয়ে গেছে বলে কিছু কাগজপত্র দেখিয়ে তার কাছ থেকে ৭৮ লাখ টাকা নেয়। পরে যাচাই করে দেখা যায়, কাগজগুলো ভুয়া। মামলা হলে অভিযুক্তকে আটক করা হয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বিদেশ যাওয়ার আগে রিক্রুটিং এজেন্সির বৈধতা যাচাই না করাই প্রতারণার অন্যতম কারণ। টাকা দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটি বিএমইটির অনুমোদিত বৈধ এজেন্সি কি না, তা যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে ভিসা, নিয়োগপত্রসহ সব কাগজপত্র যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
ট্রাভেল এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আটাব) সিলেট জোনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার জলিল বলেন, সিলেটে বৈধ এজেন্সির সংখ্যা প্রায় ২০০ হলেও অবৈধ এজেন্সির সংখ্যা অন্তত এক হাজার। বিদেশ যাওয়ার আগে এজেন্সির বৈধতা যাচাই, কাগজপত্র পরীক্ষা এবং লেনদেনের প্রমাণ রাখা জরুরি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মনজুরুল আলম বলেন, বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
logo-1-1740906910.png)