সাইবার মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ-আইওএম চুক্তি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫
বাংলাদেশে সাইবার প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানব পাচার প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম (IOM-UN Migration) এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) যৌথভাবে একটি ২৪ মাস মেয়াদি প্রকল্প চালু করেছে। প্রকল্পটির নাম “Countering Cyber-Enabled Human Trafficking Through Technology”।
আইওএম ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে আইওএম বাংলাদেশ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানব পাচার প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা তৈরি করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, চাকরির ওয়েবসাইট ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে পাচারকারীরা যেভাবে মানুষকে টার্গেট করছে, সেই প্রবণতা মোকাবিলায় তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে কাজ করা হবে—
১. প্রমাণ ও জ্ঞানভিত্তি তৈরি
২. আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি
৩. কমিউনিটিতে ডিজিটাল সাক্ষরতা উন্নয়ন
চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের প্রধান লরা টম বন্ডে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এ কে এম সোহেল, অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা।
আইওএম বাংলাদেশের প্রধান লরা টম বন্ডে বলেন, “প্রযুক্তি মানুষের যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও সুযোগের পথ খুলে দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে পাচারকারীরাও এটিকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই প্রকল্প প্রযুক্তিকে সমাধানের অংশ হিসেবে কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।”
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, “প্রকল্পটি মানবপাচারে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সরকারের প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিকে মানব পাচার মোকাবিলার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।”
প্রকল্পটির মাধ্যমে সরকার ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বাড়বে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো সাইবার মানবপাচার মোকাবিলায় আরো দক্ষ হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতের নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে সহায়ক হবে।
logo-1-1740906910.png)