বাংলাদেশ ও লাওস দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। ১৩ আগস্ট দুই দেশ ভিয়েনতিয়েনে প্রথম ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) আয়োজন করে বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং শ্রমিক নিয়োগে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
১৯৮৮ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর এ ধরনের বৈঠক এবারই প্রথম। বৈঠকটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং লাওসের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনুপার্ব ভংনরকিও।
আলোচনায় উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ইকো-ট্যুরিজম, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, কনস্যুলার কার্যক্রম এবং উচ্চশিক্ষা।
বাংলাদেশ ও লাওস শ্রমিক নিয়োগে সহযোগিতা বাড়াতে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের লাওসে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার জন্যও একটি সমঝোতা স্মারক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, তরুণ কূটনীতিকদের বিনিময়, পর্যটন সহযোগিতা এবং এলডিসি থেকে উত্তরণের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কনস্যুলার ইস্যুতে বাংলাদেশ লাওসকে সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার অনুরোধ জানায়। লাওস এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দেয়।
বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল। উভয় পক্ষ স্বীকার করে যে বর্তমান বাণিজ্য প্রবাহ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। তাই বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে যৌথ প্রচেষ্টা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্যবসায়িক সংযোগ বাড়াতে দুই দেশের চেম্বার অব কমার্সের মধ্যে বিনিময় কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সম্মত হয়।
লাওস বিশেষভাবে বাংলাদেশের ওষুধ ও কৃষিপণ্যে আগ্রহ প্রকাশ করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ লাওসের আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থনকে সাধুবাদ জানায় এবং রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা চায়।
লাওস বাংলাদেশের আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি (RCEP)-তে যোগদানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায়।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ও লাওস একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা অভিযোজন ও প্রশমন কৌশল নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন।
বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রতিনিধি দল একটি ফলাফল নথিতে স্বাক্ষর করে। পরে লাওসের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের সম্মানে এক সংবর্ধনা ভোজের আয়োজন করে।
logo-1-1740906910.png)