শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:০৪
দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিদিনই নানা বিশৃঙ্খলা ও অনিয়মে জর্জরিত। প্রবাসী ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে দেশের প্রথম পরিচয় হয়ে ওঠা এই স্থাপনাটি এখন ভোগান্তি ও দুর্নীতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরা রমজান আলীর অভিজ্ঞতা এরই প্রতিফলন। দীর্ঘ ফ্লাইট শেষে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কার পার্কিংয়ে আসতেই দালালদের ‘বকশিশ’ দাবির মুখে পড়েন তিনি। দিতে অস্বীকৃতি জানালে গালিগালাজের শিকার হন। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে টাকা দিয়ে মুক্তি পান।
বিমানবন্দরের কার পার্কিং, ক্যানোপি, ইমিগ্রেশন; সবখানেই সীমাহীন বিশৃঙ্খলা। নেই শক্ত নিরাপত্তা, নেই পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। পার্কিং এলাকায় দোকানপাট ও ভাসমান হকারে ভরপুর। টয়লেটের অবস্থা শোচনীয়, মেঝেতে আবর্জনা পড়ে থাকে। পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও সেবার মান দিন দিন অবনতি ঘটছে।
বিশ্বব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা যে কোনো যাত্রীর জন্য দুঃস্বপ্ন। শৌচাগারে তীব্র দুর্গন্ধ, লাগেজ পেতে অযৌক্তিক বিলম্ব, ট্রলি সংকট; সবকিছুই যাত্রীদের জন্য নির্যাতনের মতো।
বেবিচক সূত্র জানায়, কার পার্কিং ও টার্মিনাল এলাকায় সিন্ডিকেটের প্রভাব এতটাই বেশি যে যাত্রী হয়রানি প্রতিদিনের নিয়মে পরিণত হয়েছে। ট্রলি আটকে রাখা, বকশিশ আদায়, অতিরিক্ত ফি নেওয়া; সবই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। পুলিশের চোখের সামনেই ভবঘুরেরা যাত্রীদের লাগেজ ট্রলিতে তুলে টাকা দাবি করছে।
একসঙ্গে তিনটির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নামলেই সেবা এলোমেলো হয়ে যায়। স্ক্যানিং মেশিন কম থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে। লাগেজ আসতে বিলম্ব হয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা যাত্রীরা তল্লাশির মুখে পড়েন বেশি।
যাত্রীদের সঙ্গে অতিরিক্ত মানুষ প্রবেশ ঠেকাতে বেবিচক নির্দেশনা জারি করলেও তা কার্যকর হয়নি। একজন যাত্রীর সঙ্গে ৮-১০ জন পর্যন্ত আসছে। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো হিমশিম খাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী প্রতি তিন মিনিটে একজনের ইমিগ্রেশন শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শাহজালালে তা হচ্ছে না। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
প্রতিদিন ৩০-৪০ হাজার যাত্রী ও দর্শনার্থী আসা-যাওয়া করলেও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। এভসেক ও পুলিশের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে।
বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, যাত্রীসেবার মান বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে, যাত্রীদের ভোগান্তি এখনো কমেনি।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিনের বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম প্রবাসী ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। কঠোর তদারকি ও জবাবদিহি ছাড়া এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
logo-1-1740906910.png)